স্বাস্থ্য মন্ত্রীর লোক পরিচয়ে গ্রাহককে ব্যাংক ব্যবস্থাপকের হুমকি!
মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর শাখা জনতা ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ী গ্রাহকের সাথে খারাপ আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে।
দশ মাসেও চেক বই না পেয়ে ওই গ্রাহক কিছুটা রাগান্নিত হন। এসময় হুমকি দিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপক বলেন, আপনাকে চেক বই দিবো না, ব্যাংক ম্যানেজারের চাকরি করি দেখে আমাকে কি মনে করেছেন? “আপনি আমাকে চিনেন? আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর লোক”।
মাদারীপুর সদর উপজেলা মস্তফাপুর এলাকার বাসিন্দা ও হাওলাদার কনস্ট্রাকশনের মালিক ইলিয়াস হাওলাদার। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী।
সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে ইলিয়াস হাওলাদার জানান, ২০২০ সালের ১২ আগষ্ট তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাওলাদার কনস্ট্রাকশন এর চেক বই পাওয়ার জন্য আবেদন করি। আবেদন করার কিছু দিন পর সে সময়ের ব্যাংকের ব্যবস্থাপক পরিবর্তন হয়ে যায়। পরবর্তীতে আইয়ুব আলী নামে নতুন ব্যবস্থাপক হিসেবে আশার পর ব্যাংকে গিয়ে চেক বইয়ের খোঁজ নিতে যাই। এসময় ব্যাংক কতৃপক্ষ বলেন, আপনার চেক বই প্রাপ্তি আবেদন ফরমটি খুজে পাওয়া যাচ্ছে না, পুনরায় আবেদন করেন। এরপর চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারী পুণরায় আবেদন করি। আবেদন করার পর থেকে বেশ কয়েক বার ব্যাংকে গিয়েও চেক বই পাইনি।
তিনি আরো জানান, সর্বশেষ গত রবিবার (৬ জুন) চেক বই নিতে ব্যাংকে যাই। তখন ব্যাংক ব্যবস্থাপক আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। তখন আমিও কিছুটা রাগান্বিত হলে তাদের সাথে তর্কবিতর্ক হয়। এ সময় ব্যাংক ম্যানেজার বলেন, আপনার মত গ্রাহক আমাদের দরকার নেই। আপনাকে চেক বই দিবো না, আপনি আপনার একাউন্ট ক্লোজ করেন। আমি ব্যাংক ম্যানেজারের চাকরি করি দেখে আমাকে কি মনে করেছেন। “আপনি আমাকে চিনেন? আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর লোক”
ইলিয়াস হাওলাদার বলেন, আমি প্রায় ১০ মাস যাবত চেক বই পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেছি। চেক বই টি আমার জন্য খুবই জরুরী। বার বার চেক বইয়ের খোঁজ নিতে গেলে ব্যাংক ব্যবস্থাপক আমার সাথে খারাপ আচারণ করেন।
তিনি বলেন, আপনার যদি বেশি জরুরী হয় তাহলে আপনি অন্য ব্যাংকে গিয়ে একাউন্ট খোলেন, আমাদের ঠিকাদার প্রয়োজন নেই। তখন আমি কিছুটা রাগান্বিত হলে তিনি আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, “আপনি আমাকে চিনেন? আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর লোক”
মস্তফাপুর শাখা জনতা ব্যাংক ব্যবস্থাপক মো. আইয়ুব আলী বলেন, আমরা চেক বই পাওয়ার আবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছি, তার একটা কপি আমরা তাকে দিয়েছি। তারপরেও সে অফিসে আসার পর আমার সাথে খারাপ আচারণ করে এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। এবং আমাকে সে বলেছে, আপনি ব্যাংকের নিচে আসেন দেখিয়ে দেব আমি কে? তখন আমি তাকে বলেছি আমিও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর লোক’।
জনতা ব্যাংক মাদারীপুর জেলার উপ-মহাব্যবস্থাপক আলী আহম্মেদ খান বলেন, চেক সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে কোন এক গ্রাহকের সাথে আমাদের ম্যানেজারের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। আমি বিষয়টি অবগত আছি। আসল (এম,আই,সি) চেক পেতে সময় লাগে। তাছাড়া হেড অফিস যদি চেক না দেয় তাহলে আমাদের কিছু করার থাকে না। তাছাড়া আমি দুদিন ছুটিতে আছি, বৃহস্পতিবার ব্যাংকে গিয়ে বিষয়টি দেখবো।
সে আসলে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর লোক কিনা যানতে চাইলে তিনি বলেন, কারো সাথে তার ব্যাক্তিগত সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।
আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম