শেরপুরে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে আলাল গ্রুপের কোটি টাকার সরকারি জমি দখল
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি- রানীরহাট আঞ্চলিক সড়কের ভবানীপুর ইউনিয়নের জামনগর গ্রামে শহরের প্রভাবশালী আলাল গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পত্তি কব্জায় নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শুধু কব্জায়ই নয়, সেখানে রীতিমত প্রকাশ্য দিবালোকে অবকাঠামো নির্মাণ অব্যাহত থাকলেও, অজ্ঞাতকারণে নিরব রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
সরেজমিনে জানা যায়, চান্দাইকোনা-ভবানীপুর সড়কের মাঝ পথে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নে জামনগর গ্রামে শেরপুরের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিমালিকানাধীন ও সুনামধন্য কোম্পানী আলাল গ্রুপ অব ইন্ড্রাষ্টিজ এর অংঙ্গ প্রতিষ্ঠান একাত্তর ইন্ট্রিগ্রেশন ফার্ম বাংলাদেশ এর নামে সাইনবোর্ড টাঙানো দেখা যায়।
ওই কোম্পানীর অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের নামে কোবলাকৃত সম্পত্তির সাথেই সরকারি মূল্যবান পরিত্যক্ত জমি ইট-বালি দিয়ে প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে ঘেরাও দিয়ে বেদখল করার অভিযোগ উঠেছে।
বেদখলকৃত ৫৯ শতক সম্পত্তিটি উপজেলার ৭নং ভবানীপুর ইউনিয়ন ও একই মৌজায় এক নন্বর খাস খতিয়ানের তালিকায় থাকা ওই সম্পত্তির মালিক বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বগুড়া জেলা প্রশাসক। বর্তমানে জমির বাজার মূল্যে কোটি কোটি টাকা। স্থানীয় প্রভাবশালী কোম্পানী আলাল গ্রুপের নামে কেনা সম্পত্তির পাশে সরকারি ওই মূল্যবান সম্পত্তিটুকু অত্যন্ত কৌশলে ঘেরাও দিয়ে রেখেছে। এমনকি একাত্তর ফিড নামের আলাল গ্রুপ নিজ দখলে নেওয়ার চেষ্টায় তৎপর রয়েছে।
এনিয়ে স্থানীয় ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে শেরপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে সরকারি সম্পত্তি বেদখলের বিষয়টি অবহিত করা হলে সরকারের পক্ষ থেকে সেখানে দ্রæত নোটিশ দিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়। তারপরও কয়েক দিন পর থেকেই অজ্ঞাতকারণে সেখানে পুনরায় নির্মাণ কাজ চালু হয়েছে এমন তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তথ্যমতে প্রকাশ, বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন ও মৌজার জামনগর গ্রামে এমন ঘটনার সত্যতা মিলেছে।
সেখানে স্থানীয় আলাল গ্রুপের একাত্তর ইন্ট্রিগ্রেশন ব্রয়লার মুরগীর ফার্ম নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে শুরু করেন ওই গ্রুপের লোকজন।
জামনগর গ্রামের মাঝে সরকারি রাস্তা সংলগ্ন প্রায় দুই একর ধান চাষের আবাদী জমিতে সরকারি অনুমতি ছাড়াই ওই ফার্মের সেড নির্মান কাজ চালাচ্ছেন তারা। উক্ত আবাদী জমির সীমানার মাঝে মাত্র ৫৯ শতক সরকারি ১নং খতিয়ানের খাস জমি আছে।
মূল্যবান ওই সরকারি সম্পত্তির সি,এস খতিয়ান নং-১, এমআরআর-৮৪১, শ্রেনী- ধানী। গ্রামীন রাস্তার বর্ধিত অংশ। সেখানে সরকারি সম্পত্তির পুরোটাই একাত্তর ইন্ট্রিগ্রেশন ব্রয়লার মুরগীর ফার্ম নির্মাণ সেডের ভেতরে নিয়ে বেদখল করার বিরুদ্ধে এলাকার ভূমিহীনদের পক্ষ থেকেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে আলাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলাল উদ্দিনের ব্যক্তিগত মুঠোফোন এ যোগযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
এ ব্যাপারে ভবানীপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, সরকারি সম্পত্তি বেদখলের খবর পাওয়া মাত্র সেখানে চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে আবারো কাজ চলছে কিনা সেটা আমার জানা নাই।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি জানি ও সরেজমিনে দেখে এসেছি। বেহাত হওয়া সরকারি সম্পত্তি আইনী প্রক্রিয়ায় উদ্ধার করা হবে।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) সাবরিনা শারমিন বলেন, এমন অভিযোগ জেনেছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাশেদুল হক/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম