ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে কাঁঠালের বাম্পার ফলন

জাতীয় ফল কাঁঠাল। এই ফলকে বলা হয় ফলের রাজা। কাঁঠাল খুব সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। এই ফলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন। কাঁঠাল শুধুমাত্র একটি মৌসুমী ফলই নয়- সহায়ক খাদ্য ও অর্থকরী ফসল।

আর এই ফলেরই বাম্পার ফল হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায়। বাগানের গাছগুলোতে ঝুলছে সারি সারি কাঁঠাল। যা এখন সবার নজর কাড়ছে কাঁঠাল বাগানের গাছগুলো।

কোন কোন পরিবার ফল মৌসুমে কাঁঠাল বিক্রি করে সারা বছরের আয় করে থাকে। ২ থেকে তিন মাস কাঁঠালের ভরা মৌসুম এসময় পাইকার ও শ্রমিক শ্রেনীর লোকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কাঁঠালের ভাল ফলন হয়েছে ।

তবে ফলন বেশি হলে দাম না পাওয়ার আশংকাও রয়েছে। কারণ বেশি ফলনে দাম পড়ে যাওয়ার রেওয়াজ আদিকালের। অভাবের কারণে অনেকে কাঁঠালের গাছ বিক্রি করে দিচ্ছে। আসবাবপত্র প্রস্তুকারী ও ব্যবসায়ী এসব নামমাত্র মূল্যে কিনে ফায়দা লুটছে।

উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে কাঁঠাল গাছগুলো ফলে ফলে ভরে গেছে। বিজয়নগর উপজেলায় ১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে কালাছড়া , বিষ্ণুপুর , কাঞ্চনপুর , খাটিঙ্গা, কাশিমপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর, মেরাশানী, কামালমুড়া, নুরপুর, কাশিমপুর, হরষপুর, ধোরানাল, মুকুন্দপুর, সেজামুড়া, নোয়াগাঁ ও পত্তন এলাকায় রয়েছে প্রায় চার শতাধিক কাঁঠাল বাগান। চলতি বছর এই উপজেলায় ১২০-৩৫০ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ করা হয়েছে।

এছাড়াও উপজেলার প্রায় প্রত্যেক বাড়ীতে রয়েছে ৫/৬ টি করে কাঁঠাল গাছ। যা প্রত্যেক পরিবারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়। বিজয়নগর উপজেলায় সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট বসে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের রানওয়ের বাজার, সিংগারবিল ইউনিয়নের মেরাশানি বাজার, সিঙ্গারবিল বাজার, চম্পকনগর ইউনিয়নের চম্পকনগর বাজার ও পাহাড়পুর ইউনিয়নের আউলিয়া বাজার।

এছাড়া ও উপজেলার মুকুন্দপুর, ছতরপুর,হরষপুর বাজারে পাইকারি ভাবে কাঁঠাল বেচাকেনা করা হয়। এই সব বাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, মৌলভী বাজার, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী ও রাজধানী ঢাকার ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন কাঁঠাল ক্রয় করে বিভিন্ন যানবাহনে নিয়ে যাচ্ছে।

এ অঞ্চলের কাঁঠালের স্বাদ অন্যান্য এলাকায় চেয়ে বেশি হওয়ার তার কদরও রয়েছে। প্রতিটি গাছে ৬০ থেকে ১০০ পর্যন্ত ফল ধরেছে। কৃষিপণ্য কাঁঠাল মূলত একটি মৌসুমী সুস্বাদু ফল। কাঁঠালের বিচি তরকারীতেও সমান ভাবে জনপ্রিয়।

এলাকাবাসী জানান, সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে চাষিরা পাকা ও কাঁচা কাঁঠাল নিয়ে আসে। সে সব বাজার থেকে ক্রেতারা বিভিন্ন যানবাহনে করে কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়।

বুধন্তী ইউনিয়নের পাইকার ব্যবসায়ী আমির আলী, মাধবপুর উপজেলার মনতলার ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন জানান, ফলের মৌসুমে সিজনালভাবে ফলের ব্যবসা করি।

উপজেলার বিষ্ণুপুর ও পাহাড়পুর, সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন বাগান ও এলাকা থেকে কাঁঠাল কিনে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করি। এবং সিজনাল ফলের ব্যবসা করে সংসারের খরচ চালায়। সাতগাঁও গ্রামের কাঁঠাল ব্যবসায়ী রতন মিয়া বলেন, বিষ্ণুপুর এলাকার কাঁঠালের বাগান বেশি। এখারকার কাঁঠালের স্বাদই অন্যরকম। তাই আমি বাগান ঘুরে কাঁঠাল কিনে সরাইল, বিশ্বরোড, মাধবপুর, ভৈরব সহ বিভিন্ন হাট বাজারে নিয়ে বিক্রি করি।কাঁঠালের প্রকার ভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রয় করে থাকি।

উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাদিউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কাঁঠাল এবং অন্যান্য ফসল ও ফল উৎপাদনের জন্য সর্বদায় কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। যাতে করে কৃষকরা ভালো ফল উৎপাদন করতে পারেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ খিজির হোসেন প্রামানিক বলেন, বিজয়নগর উপজেলার দিন দিন কৃষিবান্ধব উপজেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করছ। এখানে সব ধরনের ফলই চাষ হচ্ছে। সারাদেশে লিচুর জন্য বিখ্যাত বিজয়নগর। আর কাঁঠালের জন্যও প্রসিদ্ধ এ অঞ্চল। এ বছর কাঁঠালেও বাম্পার ফলন হয়েছে। এই অঞ্চলে নরম চাউলা ও রসালো এই তিন ধরনের কাঁঠাল চাষ হয়। ফসল ও ফল বাগানের মালিকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। তবে এই বছর কাঁঠাল বিক্রিয় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ছাড়িয়ে বলে মনে ধারণা করছি।

মোঃ রাসেল আহমেদ/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর