পরকীয়া প্রেমিকার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে গণধোলাই খেলো চিকিৎসক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গভীররাতে পরকীয়া প্রেমিকার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় গ্রামবাসীর হাতে ধরা পরায় শফিকুল ইসলাম বাকা নামের এক পল্লী চিকিৎসককে গণধোলাই দিয়েছে এলাকাবাসী।

পরে খবর পেয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এসময় পরোকীয়ায় লিপ্ত থাকা ওই নারীকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে।

এদিকে পল্লী চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম বাকার পক্ষ হতে তাকে মারধর করায় জন্য এলাকাবাসির নামে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গুরুতর আহত ওই পল্লী চিকিৎসক বর্তমান ফরিদপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

থানার উপ-পরিদর্শক মো. সুমন আহমেদ জানায়, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে তার জিম্মায় রেখে আসি। পরবর্তীতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এক বিধবা নারীর সাথে গ্রাম্য ডাক্তার শফিকুল ইসলাম বাকার দীর্ঘদিনের পরোকীয়া প্রেম রয়েছে। এনিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে একাধীকবার সালিশ হয়েছে। রোববার ভোররাতে উভয়ে মোবাইলে যোগাযোগ করে তাদের বাথরুমের পাশে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়। সেসময় নামাজ পড়তে যাওয়া ওই নারীর দেবর বিষয়টি দেখে ফেলে। সেসময় ওই ব্যক্তিকে মেরে ফেলার জন্য তারা দু’জনই তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করতে চেষ্টা করে। পরে তার চিৎকারে তার স্ত্রী ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে এলাকাবাসীকে ডাক দেয়। পরে আশপাশের অনেক লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে পরোকীয়া যুগলকে আটক করে গনধোলাই দেয়।

এবিষয়ে গুরুত্বর আহত সলেমান মাতুব্বর ভাঙ্গা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, আমি ওদের অপকর্ম দেখে ফেলায় আমাকে ওরা মেরে ফেলতে চেয়েছিল। আল্লাহর রহমতে লোকজন এগিয়ে আসায় আমি বেঁচে গেছি।

বিষয়টি নিয়ে ডাক্তার শফিকুল ইসলাম বাকার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রুগির চিকিৎসা দিতে ঐ বাড়ীতে গিয়েছিলাম। আমি কিছু বলার আগেই আমাকে মারধর করে। এত রাতে কেন এসেছেন, কে আপনাকে ডেকে এনেছে এমন প্রশ্ন করলে তিনি এর কোন উত্তর দিতে পারেননি।

এই ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিকার ছেলে জানান, তার বাবা মারা গেছেন ১ বছর আগে। তার বাবা বেঁচে থাকতেই তার মা এই লোকের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত। কয়েকবার ধরা পরে শালিশ দরবারও হয়েছে। কিন্ত তার মা ফেরেনি। গত রাতে এলাকাবাসী আপত্তিকর অবস্থায় দেখে গনধোলাই দিয়েছে জানতে পেরে আমি ঢাকা থেকে এসেছি। তিনি আরো অভিযোগ করেন, আমাদের ধারনা ওই পল্লী চিকিৎসকের সাথে আতাত করে আমার মা আমার বাবাকে হত্যা করেছে। ওই সময়ে আমার আইনের আশ্রয় নেইনি। কারণ তখন শুধু সন্দেহ ছিল কিন্তু এখন আমরা অনেকটা নিশ্চিত আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এখন এই বিষয়ে আইনের আশ্রয় নিবো।

মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর