হাতিয়ায় ইউপি সদস্য রবীন্দ্র দাস হত্যার বিচারের দাবীতে জেলেদের মানববন্ধন

ইউপি সদস্য রবীন্দ্র চন্দ্র দাস হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন করেছে জেলেরা। সোমবার সকালে নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরঈশ্বর বাংলা বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচী কার হয়।

চরঈশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী মৎস্যজীবি লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রায় সহশ্রাধীক জেলে ছাড়াও বিভিন্ন পেশার দুই সহশ্রাধীক লোক উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে ১টা পর্যন্ত ছিল এই মানববন্ধন।

মানববন্ধন শেষে চরঈশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলা উদ্দিন আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা যুবলীগের সদস্য জিল্লুর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি মহি উদ্দিন মুহিন, সহ সভাপতি কামরুল ইসলাম মহব্বত, পৌর যুবলীগ আহবায়ক আব্দুল মালেক, যুগ্ম আহবায়ক মো: ইউনুছ, বাংলা বাজার বনিক সমিতির সভাপতি দিপক চন্দ্র দে , উপজেলা আওয়ামী মৎসজীবি লীগের সভাপতি রতন মেম্বার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক রাশেদ উদ্দিন, ইউপি সদস্য মো: সেলিম, মৎস ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম রাজু, রবীন্দ্র চন্দ্র দাসের পরিবারের পক্ষে তাঁর পিতা সতিশ মহাজন ও ছেলে রিকেল চন্দ্র দাস প্রমূখ।

বক্তরা তাদের বক্তব্যে এই হত্যার সাথে জড়িত আব্দুল হালিম আজাদ, ছেলে অমি, ভাতিজা সোহেল, নাজিম ডাকাত ও রহিম ডাকাতসহ আসামীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক বিচার দাবী করেন। এছাড়া হত্যা কান্ডের ৫দিন পেরিয়ে গেলেও উল্লেখযোগ্য কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন বক্তরা।

জেলেদের এই মানববন্ধনে একমত পোশন করে ভিন্ন ভিন্ন ব্যানার নিয়ে উপস্থিত হয় আরো কিছু সংগঠন। এর মধ্যে ৩নং ওয়ার্ডের জনগন, বাংলাবাজার বনিক সমিতি, ৪নং ওয়ার্ডের জনগন।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার দিবাগত রাতে হাতিয়া শ্রমিকলীগের সভাপতি আল আমিনসহ মোটরসাইকেল যোগে চরঈশ্বর থেকে ওছখালী আসছিলেন চরঈশ্বর ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার রবিন্দ্র চন্দ্র দাস। তাদের মোটরসাইকেলটি চরঈশ্বর প্রধান সড়কের খাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম আজাদের বাড়ীর সামনে আসলে একদল দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য কর কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে গতিরোধ করে।

এসময় মোটরসাইকেলের পিছনে থাকা আল আমিন পিছন দিকে দৌঁড়ে পালিয়ে গেলেও হামলাকারীদের হাতে আটকা পড়ে রবিন্দ্র। হামলাকারীরা প্রথমে রবিন্দ্রকে গুলি ও পরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে এবং তার হাতের কব্জি ও রগ কেটে ফেলে যায়। পরে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রবিন্দ্রের লাশ উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় শুক্রবার সকালে নিহত রবীন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে রিকেল বাদী হয়ে ৪৪জনের নাম উল্লেখ করে হাতিয়া থানায় একটি মামলা করে। সোমবার পর্যন্ত পুলিশ অভিযান দিয়ে তিনজনকে আটক করে।

জিল্লুর রহমান রাসেল/ বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর