জ্ঞানের ফেরিওয়ালা ড. মোয়াজ্জেম হোসেন

নরসিংদী জেলার বিভিন্ন গ্রাম ও শহরের পথে প্রান্তরে বই নিয়ে ছুটে চলছেন অদম্য মানুষটি। বই বিলানো যেন তার নেশা। তার একটাই প্রত‍্যাশা, জ্ঞানের আলোতে আলোকিত হোক প্রতিটি মানুষ।

প্রায় দুই দশক ধরে মানুষের মাঝে বই বিতরণের এই মহান কাজটি যিনি করছেন তিনি হচ্ছেন নরসিংদী প্রেসিডেন্সি কলেজের চেয়ারম্যান ড. মো: মোয়াজ্জেম হোসেন।

জ্ঞানের আলো বিতরণ করে আলোর মিছিলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে ইতিমধ্যে নরসিংদী জেলায় তার খ‍্যাতি ছড়িয়ে পড়ছে। বই বিতরণের পাশাপাশি মানুষকে বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে চলছেন।

তারই ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালে নরসিংদী পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে অল্প বই দিয়ে শুরু হলে ও দীর্ঘ ২০ বছর পর বর্তমানে এ লাইব্রেরিতে পাঁচ হাজারের বেশি বই রয়েছে। এটি নরসিংদী শহরের প্রাণকেন্দ্র শিক্ষানগরী হিসেবে খ্যাত ১০২ পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী, নরসংদীতে অবস্হিত। লাইব্রেরিটি সপ্তাহে ছয় দিন খোলা থাকে। সাপ্তাহিক বন্ধ শুক্রবার। ২০২০ সালে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর হতে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত হয় নরসিংদী পাবলিক লাইব্রেরি।

বই পড়ায় কীভাবে উৎসাহিত হলেন এ প্রসঙ্গে ড. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তিনি যখন ১৯৮৫ সালে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়েন তখন তাঁর শ্রদ্ধেয় ইংরেজি শিক্ষক হাবিবুল্লহ স্যার তাঁকে প্রথম পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই পড়ার জন্য উৎসাহিত করেন। ডা. লুৎফর রহমানের ‘উন্নত জীবন’ পড়ার জন্য বলেন। তিনি বইটি কিনে পড়ে বিমোহিত হলেন। দারুন এক মোটিভেশনাল বই। এ থেকে পাঠ্যবইয়ের বাইরে তাঁর বই পড়ার অভ্যাস শুরু।

ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বই পড়ার জন্য মানববন্ধনের আয়োজন করে শুধু নরসিংদী নয়, সারা বাংলাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে তাঁর নিজের লেখা বই উপহার দিয়েছেন।

বই পড়া আন্দোলন প্রসঙ্গে ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বইয়ের পাঠক বাড়ানো, বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরাই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি নরসিংদী শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে নিজে বই নিয়ে দিয়ে আসেন এবং এক সপ্তাহ পর আবার তা ফেরৎ নিয়ে অন্য বই দেন । এভাবে তিনি জ্ঞানের আলো বিতরণ করে চলেছেন । নরসিংদী শহরে সেলুন লাইব্রেরিও গড়ে তুলেন তিনি।

ড. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তাঁর লাইব্রেরিতে বিভিন্ন দুর্লভ বই, প্রাচীন পুঁথি, নরসিংদীর প্রাচীন ইতিহাস, ঢাকার ইতিহাস, বিক্রমপুরের ইতিহাস,বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি, বিখ্যাত কবি সাহিত্যিকদের রচনাবলী, মোটিভেশনাল,কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, আত্মজীবনী,স্মৃতিচারণ,সম্মাননা, স্মারকগ্রস্থ , ইংরেজি সাহিত্য, বাংলা সাহিত্য,বাংলা-ইংরেজি অভিধান, বাংলা ইংরেজি ব্যাকরণ, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা-আন্দোলন,দুর্লভ ম্যাগাজিন, ইতিহাস ঐতিহ্য, অনুবাদ, ধর্মীয় সংক্রান্ত আলাদা আলাদা বইয়ের সেলফ রয়েছে। নরসিংদী বিষয়ে কেউ জানতে চাইলে বা গবেষণা করতে চাইলে এ লাইব্রেরির বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বই মানুষের চেতনাকে নাড়া দেয়। মানুষের চিন্তার জগতের পরিবর্তন ঘটায়। নরসিংদী পাবলিক লাইব্রেরিতে সবই বাছাইকৃত বই। তাছাড়া নরসিংদীর প্রায় ২০০ লেখকের বই রয়েছেএ লাইব্রেরিতে। এ লাইব্রেরিতে ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে। কারো প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহার করেও প্রয়োজনীয় তথ্য নিতে পারে। লাইব্রেরিতে বই পড়ার পাশাপাশি বাসায় বই নিয়েও পড়া যায়।

লাইব্রেরিতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা জনসচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান, ব্যক্তির জন্ম-মৃত্যু বার্ষিকী পালন, গোল টেবিল বৈঠকসহ নানা অনুষ্ঠান হয়ে পালিত থাকে।

তিনি জানান, লাইব্রেরির পাশাপাশি তিনি পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন। গ্রীন বাংলাদেশ নামের একটি .সংগঠনের মাধ্যমে এ কাজ করেন। তিনি একজন শিক্ষাবিদ। প্রতিষ্ঠা করেন ড.এমএইচ ফাউন্ডেশন, নরসিংদী প্রেসিডেন্সি কলেজ, নরসিংদী জাদুঘর । তাছাড়া ২০১০ সালে শিক্ষানুরাগী সামসুউদ্দিন পাবলিক লাইব্রেরি নামে আরেকটি লাইব্রেরি গড়ে তুলেন তাঁর নিজ গ্রাম খৈনকুটে।

তিনি একজন শক্তিমান লেখক ও গবেষক। তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে পাঠাগার আন্দোলনের সাথে যুক্ত তিনি ।
বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠক বিশেষ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কবি লেখকগণই নরসিংদী পাবলিক লাইব্রেরিতে বই পড়তে বেশি আসেন । ড. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ভবিষ্যতে বড় জায়গায় বিশাল আকারে এ লাইব্রেরি ¯’স্থানান্তর করতে চান।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে তিনি আলোর ফেরিওয়ালা, জ্ঞানের ফেরিওয়ালা ও বইপ্রেমী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

একে এম রেজাউল করিম/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর