মোহাম্মদ নাসিম তার বাবা মনসুর আলীর মতোই সাহসী ও নির্ভীক ছিলেন। কোনোদিন অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি, তিনি ছিলেন আপসহীন নেতা। মোহাম্মদ নাসিমের পরিবার কখনও বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করেননি। তিনি আওয়ামী লীগ ও দেশের মানুষের কাছে থেকে চলে গেছেন, তার চলে যাওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। শূন্যতা কোনো ভাবেই পুষিয়ে ওঠার মতো নয়। এই শূন্যতা অপূরণীয়।
শনিবার (১২ জুন) বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রয়াত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীর স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ এই স্মরণ সভার আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাদি আল-আলমাজী জিন্নাহ’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ (হৃদয়) এর সঞ্চলনায় স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে এ সময় বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ ১ আসনের সাংসদ নাসিমপুত্র প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল আজিজ এমপি বলেন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা থাকবে, ততদিন মোহাম্মদ নাসিম আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। নেতার এই অকালে চলে যাওয়ার ক্ষতি কোনো ভাবেই পুষিয়ে ওঠার মতো নয়। তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বস্ত সহযোগী হারিয়েছেন। আমরা একজন অভিভাবক হারিয়েছি।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় বাবার স্মৃতি স্মরণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, বাবা সবসময়ই সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। করোনার মধ্যেও নিষেধ না শুনে সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিতে ছুটে গিয়েছেন। এরপর তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠলেও পরে আবার স্ট্রোক করেন এবং এই জটিলতায় তিনি মারা যান। জীবনের পুরোটা সময় তিনি সাধারণ মানুষের জন্য এবং দেশের জন্য কাজ করেছেন। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা, গণমাধ্যম কর্মীরা এবং আমাদের নিয়েই ছিল আমার বাবা মোহাম্মদ নাসিমের পরিবার। কিন্তু তিনি নিজের পরিবার থেকে সব সময় নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের মূল্যায়ন করতেন।
মোহাম্মদ নাসিমের অসামান্য সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্বগুণ আমাদের মুগ্ধ করেছে। বাস্তব জীবনে তিনি ছিলেন কল্যাণমুখী চিন্তার অধিকারী। সব সময় তার এলাকা সিরাজগঞ্জের উন্নয়নে চিন্তা করতেন। সময়-সুযোগ পেলেই নিজ এলাকায় ছুটে আসতেন। করোনার সময়ও আমাদের নিষেধ উপেক্ষা করে তিনি সিরাজগঞ্জে ছুটে এসেছিলেন এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান খান বলেন, মোহাম্মদ নাসিম তার বাবা মনসুর আলীর মতোই সাহসী আওয়ামী লীগের জন্য নির্ভীক সৈনিক ছিলেন। কোনোদিন কারো সঙ্গে আপস করেননি, তিনি ছিলেন আপসহীন নেতা। তিনি আরো বলেন, মোহাম্মদ নাসিম আওয়ামী লীগ ও দেশের মানুষের কাছে থেকে চলে গেছেন, তার চলে যাওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাছে তিনি ছিলেন বিশস্ত নেতা।
এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতৃবৃন্দ ও আওয়ামী সহযোগী সংগঠনের সকল স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এম এ মালেক/বার্তা বাজার/এসজে