ঘরের দরজা বন্ধ করে রোগীসহ স্বজনদের পিটিয়েছে কথিত কবিরাজ

নামের আগে লাগিয়েছে ডাক্তার। মানুষকে ঝাড়-ফুঁক দিয়ে রোজগার করা এখন তার পেশা। একাধিক নাশকতা মামলার আসামি বিএনপি নেতা শেখ মহিউদ্দীন রাতারাতি বনে গেছে বিরাট কবিরাজ। ওই কবিরাজ সাতক্ষীরার তালা সদরের শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়,কবিরাজ মহিউদ্দিন পাশ্ববর্তী সুজনশাহ গ্রামের রউফ মেম্বার হত্যা মামলার প্রধান আসামি। ২০ বছর পূর্বে তিনি সুজনশাহ গ্রাম থেকে শিবপুরে এসে স্থায়ী বসবাস শুরু করেন। ২-৩ বছর আগে থেকে তিনি কবিরাজ হয়েছেন। খুলেছেন সোলেমানী দাওয়াখানা নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

শুক্রবার (১১ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই দাওয়াখানায় মানসিক এক রোগীকে নিয়ে আসলে কথিত কবিরাজ রোগীসহ স্বজনদের দরজা বন্ধ করে বেধড়ক পিটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহানুর রহমান জানান, জ্বীন তাড়ানোর জন্য সকালে চারজন আসেন। একটি মেয়ের ঘাড়ে নাকি জিন লেগেছে। জিন ছাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ৮ হাজার টাকা চুক্তি করে মহিউদ্দীন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জ্বীন ছাড়াতে না পারায় তারা চলে যেতে চায়। তখন কবিরাজ টাকা দাবি করলে রোগীর স্বজনরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে ঘরের দরজা বন্ধ করে মারধর করা হয়।

স্থানীয়রা আরও জানান, মানুষকে বড় লোক করে দেওয়া, গর্ভে সন্তান না হলে তদবিরের মাধ্যমে সন্তানের ব্যবস্থা করা, পারিবারিক সমস্যার সমাধান, যৌন রোগের চিকিৎসা ও তদরিবের মাধ্যমে প্রেমের ব্যবস্থা করাসহ নানা সমস্যার সমাধানের কাজ করেন কবিরাজ মহিউদ্দীন।

অভিযোগের বিষয়ে শেখ মহিউদ্দীন বলেন, রোগীটা আমার কাছে এসে চুক্তি করে। তবে টাকা না দিয়ে চলে যাচ্ছিলো। তখন এই ঘটনা ঘটেছে। আমার ডাক্তার হওয়ার কাগজপত্র সব রয়েছে। আমি দেখাতে পারব।

তালা থানার ওসি মেহেদী রাসেল বলেন, ঝাড়ফুঁক দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এমন খবর আমার জানা নেই। তবে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেখ শাওন আহমেদ সোহাগ/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর