বর্ডার ক্রস বাইক বিক্রয়ের নামে চলছে প্রতারণা

সীমান্তবর্তী জেলা যশোর। আবার সর্ববৃহত স্থলবন্দর বেনাপোল এই যশোর জেলায় অবস্থিত। আর এই জেলা সীমান্তবর্তী হওয়ায় মাদক চোরাচলানের জন্য সহজ রুট হিসেবে ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা।

সম্প্রতি গত ৫ মাসে বিজিবি কতৃক প্রায় ১০ কোটি টাকার নানারকম চোরাইমালামাল চোরাকারবারিসহ আটক করা হয়।

সাতক্ষীরা, এবং যশোর সীমান্ত থেকে অবৈধভাবে চোরাকারবারিরা নিয়াসে বিভিন্ন নামি-দামি ব্রান্ডের মোটরসাইকেল। যাকে এই সকল এলাকায় বর্ডার ক্রস বাইক বলে সম্মধন করা হয়। আর এই সকল মোটরসাইকেল কিছু চোরাকারবারি দালালের মাধ্যমে বিক্রি করে। আবার অনেক ক্রেতা এমন দালালের ক্ষপ্পরে পড়ে নিস্ব হয়ে যায়।

আর এই বর্ডার ক্রস মোটরসাইকেল অবৈধ থেকে বৈধ করে দেবার পাশাপাশি নামি-দামি ব্রান্ডের মোটরসাইকেল অবিশ্বাস্যে ছাড়ে বা কম দামে নামমাত্র বিক্রি করে, কিন্তু এতো কম দামে বাইক কেনার সপ্ন যেন সপ্নই থেকে যায় ক্রেতাদের কাছে উল্টো গুনতে হয় টাকা। পালসার মোটরসাইকেল এই চক্রের কাছে মিলে মাত্র ৬৪,০০০ টাকায়, সুজুকি ৭০ হাজার টাকা। এমন অফার দেখে কারই বা মাথা ঠিক থাকে। সীমান্তে যে মুহুর্তে প্রশাসনের তৎপরতা বেড়ে যায় সে সময় এই প্রতারক চক্র বর্ডার ক্রস বাইক বিক্রয় করার আদোলে শুরু করে প্রতারণা রমরমা কর্মকান্ড। আর এই প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হয় বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়াকে।

একটি পেজ খুলেই তাতে দেওয়া হয় এমন আকর্ষণীয় নামি দামি ব্রান্ডের মোটরসাইকেল বিক্রয়ের বিজ্ঞাপন। আর কম মূল্যে এমন মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপন দেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রয়ের জন্য যোগাযোগ করে কলেজপড়ুয়া ছাত্ররা। বাইক বাসায় গিয়ে হোম ডেলিভারি দেওয়ার কথা থাকলেও একের পর এক নানা চার্জ এবং প্রশাসনিক ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েক ধাপে হাতিয়ে নেওয়া হয় লক্ষ লক্ষ টাকা। কিন্তু বাইকের ডেলিভারি চার্জ ফুরায় না এমনকি বাইকও আর বাসায় পৌছায় না।

সম্প্রতি এমন একটি চক্রে হাতে পড়ে নিস্ব হয়ে যায় এক কলেজ ছাত্র। এই প্রতারণার শিকার হওয়া ছাত্র নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জ উপজেলার কাইটপাড়া ইউনিয়নের, নগরপাড়া গ্রামের সুজন আহমেদ এর ছেলে ইসতিয়াক আহমেদ রিজভি। রিজভির কাছ থেকে বেনাপোলের একটি নামধারী বাইক সেল সেন্টার নামে একটি চক্র দফায় দফায় ৮৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে বাইক এখনো রিজভির বাড়িতে যায়নি। বার্তা বাজার প্রতিবেদক রিজভির সাথে যোগাযোগ করে সকল তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর বার্তা বাজারে অনুসন্ধানের গন্তব্যে বেনাপোল সিমান্ত।

রিজভিকে একটি ভিজিটিং কার্ড দেওয়া হয় যেখানে এই বাইক সেল সেন্টার নামে শোরুমের লোকেশান দেওয়া ছিলো বেনাপোল কাস্টম হাউসের অপজিটে। তবে বাস্তবে বেনাপোল কাস্টম হাউসের ২ পাশে প্রায় ১ কিলোমিটারের মধ্যে কোন মোটরসাইকেল শোরুমই নাই।

প্রতারক চক্রটি রিজভির বিশস্ততা অর্জন করতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে রিজভিকে দিয়েছে। এর মধ্যে ছিলো কাস্টম হাউসের ছাড়পত্র, কমিশনারের ছাড়পত্র যার সবগুলোই ছিলো মোবাইলে টাইপ করে প্রিন্ট করা যাতে আর কোন সন্দেহই থাকে না যে এটা আসল নাকি ভুয়া।

প্রতারক চক্রের এক হোতা রিজভির সাথে ভিডিও কলেও কথা বলতো। এমনকি রিজভিকে আরও বিশস্থতার জায়গায় আনতে ঠিকানা পরিবর্তন করা একটি এনআইডি কার্ডের কপি দেয়। যার নাম্বার ভেরিফাই করলে বেরিয়ে আসে আরেক তথ্য। সেখানে তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা দেখায় বরিশাল জেলায়। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে যে প্রতারক চক্রটি খুব যোগসোজে এই প্রতারণা চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে প্রতারক চক্রটিকে ফোন দিলে বিষয়টি অস্বীকার গিয়ে কল কেটে দেয়।

এ বিষয়ে রুপগঞ্জ থানার কর্মকর্তার সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে প্রথমে নেটওয়ার্কে সমস্যার কারণে পরে কল দিতে চান, এরপর প্রতিবেদক ফোন করলে ফোন রিসিভ হয়নি।

এ্যান্টনি দাস(অপু)/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর