সারাদেশে বিভিন্ন কাজের জন্য চাওয়া হয় ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ। স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ফরম পুরণে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য চায়। আর এ তথ্য চাওয়ায় প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন এর জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষেরা।
শুধু তাই নয়, এ জন্ম নিবন্ধন সনদ তুলতে দিতে হয়, প্রার্থীর পূর্বের জন্ম নিবন্ধন সনদ, বাবা মায়ের পূর্বের জন্ম নিবন্ধন সনদ, ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ফোটোকপি এবং ছবিসহ নানান কাগজপত্র দিতে হয়। প্রতিটি কাগজ পত্র সঠিক থাকায়, এবং ইউনিয়ন তথ্যসেবায় কপিগুলো দেওয়ার পরে নতুন করে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ হাতে নিলে দেখা যায় ভুলে ভরা।
কারো কারো ক্ষেত্রে জন্ম তারিখ ভুল, নারীর ক্ষেত্রে পুরুষ, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা, কারো কারো ক্ষেত্রে বানান ভুল, বাবার জায়গায় দাদার নাম, মায়ের জায়গায় নানীর নাম, নামের আগে পিছে ভুলে ভরা। আর এসব ভুলের কথা গুলো তাদেরকে বললে এড়িয়ে চলে। কিন্তু ওই ভুলের দায় কেউ নিচ্ছে না। আবার সমাধানের পথ দেখাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। শেষমেশ কয়েকদিন ঘুরার পরে সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেন তথ্যসেবা কর্মচারীরা এবং আরো বিভিন্ন কাগজ পত্রের কথা উল্লেখ করেন।
এ সব জটিল ভুল সংশোধন করার জন্য ভুক্তভোগীরা স্ব স্ব ইউপি চেয়ারম্যান, সচিব ও তথ্যসেবা কেন্দ্রের শরণাপন্ন হলেও সন্তোষজনক জবাব মিলছে না। এসব জন্ম নিবন্ধন সনদ সংশোধনী কতদিনে সম্পূর্ণ হবে তার কোন নিশ্চয়তা কেউ দিচ্ছে না। এই সব কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে অনেকে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সর্দারগছ গ্রামের আনিছুর রহমার, ও তার স্ত্রী আরজু বেগম জানান, আমি প্রতিটি কাগজের ফোটোকপি দেওয়ার পরে পিতা-মাতার নামের বানান ভুল করছে, এবং ওই ইউনিয়নের হারাদিঘী গ্রামের মো: আবুল হোসেন ছেলে নুর নবী নিপুন জানান, আমার বাবার জায়গায় দাদার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশোধন করার জন্য আরো অনেক কাগজ পত্র চাইছে, আমার পক্ষে এত কাগজ পত্র বহন করা সম্ভব না।
তেঁতুলিয়া সদর উপজেলার খুনিয়া ভিটা গ্রামের মো: দিদারুল আলমের ছেলে ডি.এম. আরাফাত হোসাইন জানান, ২০০৭ সালে হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন সনদে আমাদের পরিবারের সবার তথ্যই সঠিক ছিলো। কিন্তু গত কয়েকদিন পূর্বে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ তুলতে গিয়ে হাতে নিলে দেখতে পেলাম, আমাদের সবার নামে ভুল! এমন কি দুই বছর আগে আমার ছোট ভাইয়ের জন্ম নিবন্ধন সনদ ডিসি অফিস থেকে সংশোধন করে নিয়ে আসলেও সেটাও হালনাগাদ করা হয়নি।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা’র সাথে মুঠাফোনে কথা বলা হলে তিনি বলেন, ইউনিয়ন ডিজিটাল তথ্যসেবায় জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাটা এন্টি করার সময় প্রার্থীকে নিজে বসে কাজ করে নিতে হবে। তাহলে অনেক ভুল কমে যাবে।
তিনি আরো বলেন যে, আমি প্রতিটি তথ্যসেবার কর্মচারীদের গুরুত্বর সহিত কাজ করার জন্য বলা হয়েছে । ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুল করলে এবং অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এস.এম আল-আমিন/বার্তাবাজার/পি