যশোরে আজ থেকে লকডাউন, চলবে না গণপরিবহনও

যশোর জেলায় করোনা পরিস্থিতি খারাপ হয়ে ওঠায় বুধবার রাত ১২টা থেকে পরবর্তী সাতদিন যশোর পৌর এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে যশোর জেলা প্রশাসন।

করোনার প্রতিদিনের রেকর্ড পর্যবেক্ষন করে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা খুলনা বিভাগের যশোর ও সাতক্ষীরা জেলায় বলে জানিয়েছেন সাস্থ্য অধিদপ্তর।

এরি মধ্যে সাতক্ষীরাতে কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) চলমান রয়েছে। এরিমধ্য যশোরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এর আগে এমন অবস্থায় যশোর পৌরসভার ৩,৪ নং ওয়ার্ডে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এরপরও করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসলে জরুরী বৈঠক ডেকে যশোর জেলার ২ টি পৌরসভার (নওয়াপাড়া ও যশোর) লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে যশোর জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার রাতে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আজ বুধবার(১০জুন) থেকে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হচ্ছে।

যশোর জেলা সিভিল সার্জন সুত্রে বার্তা বাজার কে জানানো হয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে সোমবার যশোরের দুশ’ ৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১০৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিককালে যশোর জেলায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ বুধবার থেকে সাত দিনের জন্য যশোর পৌর এলাকায় সার্বিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছেঃ

১. রোগী পরিবহনকারী/অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি পণ্য বহনকারী ট্রাক ও জরুরি সেবাদানের জন্য ব্যবহৃত পরিবহন ছাড়া সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

২. ওষুধের দোকান ছাড়া সকল প্রকার দোকান ও শপিংমল বন্ধ থাকবে।

৩. কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় (মুদিখানা) পণ্যের দোকানপাট, খাবারের দোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে। তবে, হোটেল, রেস্তোরাঁয় ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি/সরবরাহ করা যাবে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ এসব স্থানে জনসমাগম করতে পারবে না।

৪. জরুরি প্রয়োজনে সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে।

৫. রিকশায় একজন, অটোরিকশায় দু’জন এবং মোটরসাইকেলে শুধু চালক যাতায়াত করতে পারবেন।

৬. শিল্পকারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। শ্রমিকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আনা-নেয়া করতে হবে।

৭. আইন-শৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবা যেমন-কৃষি উপকরণ, (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, স্থলবন্দরসমূহের কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, গণমাধ্যম, বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাকসেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও যানবাহন এ নির্দেশনার বাইরে থাকবে।

৮. অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে যেতে পারবেন না।

৯. পর্যটনস্থল, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

১০. জনসমাবেশ হয় এমন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

১১. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমার নামাজসহ প্রতি ওয়াক্তে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশ গ্রহণ করতে পারবে।

এদিকে, জেলা প্রশাসনের করোনা প্রতিরোধে জারি করা নির্দেশনা বাস্তবায়নে বুধবার সকাল শহরে প্রচার মাইক বের করা হয়েছে। একইসাথে কেউ এসব নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। এদিকে বিধিনিষেধ পর্যবেক্ষন করতে ও কঠোরভাবে পালন করতে মাঠে রয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তাবৃন্দরা।

এ্যান্টনি দাস(অপু)/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর