সংস্কারের অভাবে সড়ক যেন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে!

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ব্যস্ততম সড়কের মধ্যে অন্যতম একটি সড়ক আলফাডাঙ্গা-গোপালপুর সড়ক। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে মাত্র ৫ কিলোমিটারের এ সড়কটি যেন মৃত্যুকুপে পরিণত হয়েছে।

সড়কটিতে কার্পেটিং ও ইট-খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে শতশত ছোট-বড় গর্তের। সাম্প্রতিক বর্ষণে ওই সব গর্তে পানি জমে প্রায় ডোবায় পরিণত হয়েছে। প্রায় সময়ই ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের চাকা গর্তে দেবে যাচ্ছে। বেহাল সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গণের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছেন পথচারীরা।

সড়কটি ঘুরে দেখা গেছে, আলফাডাঙ্গা থেকে গোপালপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে ভরা। রাস্তাটির অনেক জায়গায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দেখে বোঝার ই উপায় নেই রাস্তার উপরে পুকুর নাকি পুকুরের উপরে রাস্তা! ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে চলছে অসংখ্য যানবাহন। আর সড়কটির গোপালপুর বাজার সংলগ্ন স্থান থেকে কামারগ্রামের মধ্যে রাস্তার সম্পূর্ণ অংশের কার্পেটিং ও ইট-খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ গর্ত তৈরি হওয়ায় তা যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

বিভিন্ন অটোভ্যান চালকরা অভিযোগ করে বলেন, ‘সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় ঘন ঘন অটোভ্যান নষ্ট হয়। ফলে যাত্রীরা পড়েন ভোগান্তিতে। আর গোপালপুর বাজার সংলগ্ন স্থানের বড় গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।’

রিয়াদ ইসলাম নামে স্থানীয় এক যুবক জানান, সড়কের এই পরিস্থিতিতে মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় সময়ই হালকা যানবাহন বেহাল রাস্তায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ট্রলি গাড়ি চলাচলের কারণে দিনদিন সড়কটি আরো নাজুক হয়ে পরছে। এছাড়াও কোমলমতি শিশুসহ বৃদ্ধরা যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

সৈকত মাহমুদ নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘এই গর্তের কারণে খুব রিস্ক নিয়ে বাইক চালাতে হয়। ভয়ে থাকি কখন ঘটে যায় বড় কোন দুর্ঘটনা। এছাড়া সড়কের গর্তে জমে থাকা কাদাপানি ছিটকে পোশাক নষ্ট হয়ে যায়।’

গোপালপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি খান আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘গোপালপুর বাজার সংলগ্ন স্থানের বড় বড় গর্তের কারণে প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন চলাচলকারীরা। দ্রুত এ গর্ত মেরামত করা না হলে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় কোন দুর্ঘটনা।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান বার্তা বাজারকে জানান, ‘আমি সরজমিনে গিয়ে রাস্তার বেহাল অবস্থা দেখে আপাতত চলাচলের উপযোগী করে তোলার জন্য ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে গর্তগুলো ভরাটের ব্যবস্থা করেছি। ইতোমধ্যে দুই গাড়ি খোয়া ও বালু ফেলা হয়েছে।’

এবিষয়ে ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর হোসেন বার্তা বাজারকে বলেন, ‘খুব দ্রুত সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর