নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নে রবিদ্র চদ্র দাস (৪৮) নামে এক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে এবং কুপিয় হত্যা করছে দূর্বৃত্তরা। পূর্ব বিরোধের জেরে এ হত্যাকান্ড হয়েছে বলে দাবী নিহতের স্বজনদের।
বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে খাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম আজাদের বাড়ীর সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রবিদ্র চদ্র দাস চরঈশ্বর ৩নং ওয়ার্ডের স্বতিষ চদ্র দাসের ছেলে। তিনি ওই ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও উপজেলা আ.লীগর সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আল আমিনসহ মোটরসাইকেল যোগে চরঈশ্বর থেকে ওছখালী নিজের বাসায় আসতেছিল রবিদ্র চদ্র দাস। পথে তাদের মোটরসাইকলটি চরঈশ্বর প্রধান সড়কর খাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ইউপি চয়ারম্যান আব্দুল হালিম আজাদের বাড়ীর সামনে আসলে একদল দূর্বত্ত তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে গতিরোধ করে। এসময় মোটরসাইকলের পিছনে থাকা আল আমিন পিছন দিকে দৌড় পালিয়ে গেলও হামলাকারীদের হাতে আটকা পড়ে রবিদ্র। হামলাকারীরা প্রথমে রবিদ্রকে গুলি ও পর এলাপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে এবং তার হাতের কব্জি ও রগ কেটে ফেলে রেখে যায়। পর একদল টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে রবিদ্রের লাশ উদ্ধার করে।
রবিদ্রের সাথে থাকা শ্রমিকলীগ নেতা আল আমিন অভিযোগ করে বলেন, আমরা মোটরসাইকেল নিয় আসার পথে আজাদ চয়ারম্যানের বাড়ীর সামনে আসার সাথে সাথে চেয়ারম্যানের ভাতিজা সোহল, ছেলে অমি, রহিম ডাকাত ও নাজিমসহ কয়েকজন আমাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এসময় আমরা মাটরসাইকেল রেখে পালানো চষ্টা করলে তারা রবিদ্রকে ধরে এলাপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।
নিহতের পিতা স্বতিষ চদ্র দাস বলেন, রাতে বাংলা বাজার থেকে ওছখালি যাচ্ছিল রবিদ্র। রাতে তার মাবাইল বন্ধ পেয়ে ওছখালি বাসায় কল দিয়ে জানতে পারি সে বাসায় যায়নি। এর কিছুক্ষণ পর একজন মাবাইলে জানায় রবিদ্রকে কেটে ফেলছে।
চরঈশ্বর ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাশেদ উদ্দিন জানান, আব্দুল হালিম আজাদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার একক স্বেছাচারিতার কারণে রবিদ্র মেম্বারসহ আমাদের সাথে তার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। এরপর ১১জন মেম্বার একসাথে লিখিতভাবে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্তা দেয়। এনিয়ে আজাদ চেয়ারম্যান আমাদের হত্যার হুমকি দেয়। এর জের ধরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী করেন তিনি।
নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযাগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম আজাদ বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকায় রয়েছি। এ হত্যাকান্ডের সাথে আমি, আমার পরিবারের ও দলের কোন লোকজন জড়িত নই। একটি চক্র আমাকে ফাঁসানার চেষ্টা করছে।
হাতিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, রাতে রবিদ্র চদ্র দাস ও আল আমিনসহ আরও দুইজন তিনটি মাটরসাইকেল নিয়ে ওছখালি আসার পথে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপক্ষে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জিল্লুর রহমান রাসেল/বার্তাবাজার/পি