নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে যাওয়া এক স্কুলছাত্রী শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত আসামিকে ধরতে পারেনি পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ১নং জয়াগ ইউনিয়নের মাহুতোলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত মামলার আসামিকে গ্রেফতার না করায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
জানা যায়, মাহুতোলা গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় থানার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনির ছাত্রী স্কুলে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে যাওয়ার সময় প্রায়ই একই গ্রামের মুন্সি মিয়ার ছেলে ও বর্তমান ইউপি সদস্য বাহাদুরের ছোট ভাই মাসুদ (২৬) তাকে উত্যক্ত করতো।
বৃহস্পতিবার অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়ে স্কুল থেকে ফেরার পথে থানার হাট বাজারের পূবালী ব্যাংকের সামনে মেয়েটির পথরোধ করে মাসুদ। তখন অনৈতিক কাজের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার মেয়েটির শরীরে বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় সে। এমনকি তার পরনের বোরকাও টেনেহিচড়ে ছিঁড়ে ফেলে।
মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তাকে কিলঘুষি মেরে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় মাসুদ। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েটি বাড়িতে পৌছলে তার মা হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করায়।
এ ব্যাপারে সোনাইমুড়ি থানায় একটি মামলাও দায়ের করেন তিনি। তবে মামলা দায়েরের বেশ কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্কুল ছাত্রীর মা বলেন, মাসুদের ভাই স্থানীয় মেম্বার হওয়ায় সে আমাদেরকে হুমকি ধমকি দিচ্ছে এবং তার ভাইকে রক্ষার সব রকমের চেষ্টা করছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাসুদের বড় ভাই কাজী বাহাদুর বলেন, আমার ভাই অনেক ভালো তারা আমার ভাইকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে বিষটি আমি শুনিনি পরে শুনতে পাইছি, আমি কোন প্রভাব খাটাইনি, সে অপরাধী হলে মামলা হোক। সেটা আমরা বুঝবো।
সোনাইমুড়ি থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামি এলাকায় নেই। তাকে ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বার্তা বাজার/এসজে