সিলেটের বিশ্বনাথে সড়ক ভেঙে বেহাল দশা, জনদুর্ভোগের শেষ নেই

সিলেটের বিশ্বনাথে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পড়েছেন চারটি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন এভাবে ভাঙা সড়কেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। দুর্বল বিটুমিন সড়কে ব্যবহারের ফলে সহজেই পিচঢালাই উঠে স্থানে স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট বড় সহস্র খানাখন্দ।

অল্প বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে থাকে পানি,জমে উঠে কাঁদা। এতে দিন দিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন হাজার হাজার পথচারী ও এলাকাবাসী। অথচ এই সড়ক দিয়েই উপজেলায় যাতায়াত করেন বিশ্বনাথ সদর, রামপাশা, দৌলতপুর ও দশঘর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ।২০০৯ সালের পর সড়কে আর কোনপ্রকার সংস্কার কাজ না হওয়ার ফলে ‘নতুন বাজার মাছহাটা-মুফতিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়ক (টিএনটি সড়ক)’ খানাখন্দে ভরপুর হয়ে জনসাধারণের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে,যা দেখলে মনে হয় “জন্মই যেন আজন্ম পাপ” এর মতোই।

সড়কটি বিশ্বনাথ পৌরসভা ও উপজেলা সদরের প্রানকেন্দ্রে থাকার পর কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত এই বিশ্বনাথবাসী।বিশ্বনাথ এলজিইডির আওতাধীন নতুন বাজার মাছহাটা-মুফতিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ‘বাসিয়া ও চড়চন্ডি নদী’। আর দুই নদীর তীরে থাকা দীর্ঘদিনের পুরানো গাছগুলো বিভিন্ন সময়প ঝড় তোফানে উপড়ে পড়ে জনবহুল সড়কে ভাঙ্গন ও গর্ত হওয়া শুরু হয়কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় ভাঙ্গন প্রতিরোধ ও গর্ত মেরামতের উদ্যোগ গ্রহন না করার কারণেই দিন দিন তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

সড়কটির দৈর্ঘ্য মাত্র ছয়শ মিটার হলেও বর্তমানে সড়কে রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও এসব গর্তগুলোকে দূর থেকে মিনি পুকুর বলে মনে হয়। কোথাও আবার সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে মাটির সাথে মিশে হয়ে গেছে সমতল।সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এলাকার মুসল্লী, প্রবীণ ব্যক্তি ও রোগীদের দূর্ভোগের সীমা নেই। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা কাঁদাজল নষ্ট হয় পথচারীদের গায়ের কাপড়। এক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় মহিলা ও শিশুদের। বেহালদশা থাকার পরও নিজেদের প্রয়োজনীয় কাজ করার জন্যই উপজেলার সদর, রামপাশা, দৌলতপুর ও দশঘর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষকে চরম দূর্ভোগ সহ্য করে সড়ক ব্যবহার করতে হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার কাজ করার জন্য এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবী জানিয়ে আসলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এমনকি একাধিকবার সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের কাছে এলাকাবাসী স্মারকলিপিও প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে। সড়কে পাশে থাকা দীর্ঘদিনের পুরানো গাছগুলোর ব্যাপারেও কোন প্রদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। যার ফলে সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় উপর থেকে পুরানো গাছের শুকনো ডাল ভেঙ্গে পড়লে ও সড়কে থাকা গর্তে পড়ে আহত হওয়ার আতংঙ্কে থাকতে হয় এলাকাবাসীকে।

ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার কাজ না হওয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদেরকে পথে দাঁড়াতে হবে। জনদূর্ভোগ কমানোর জন্য দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চালক মাসুক মিয়া বলেন, জীবিকার তাগিদে আমাদেরকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। আর সড়কের এমন করুণ অবস্থা থাকার কারণে চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে আমাদেরকে (চালক)।

এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি মোকাব্বির খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বার্তা বাজার ডটকমকে বলেন, এলাকাবাসী দূর্ভোগ কমিয়ে আনতে বিভিন্ন এলাকার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জনগুরুত্বের দিক দিয়ে সকল সকল সংস্কার করা হবে। এর পাশাপাশি এলাকার কাঁচা সড়কগুলোও পাকাকরণের আওতায় আনা হবে।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর