মাদারীপুরের রাজৈরে টাকা ধার না দেয়ায় সৌদি প্রবাসী রেজাউল মুন্সী(৩৫) সহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে পৈতৃক সম্পত্তিতে নির্মানাধীন ভবনের কাজ।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজৈর উপজেলার পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের হৃদয়নন্দীচর এলাকায়। এতে আতঙ্কিত ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন প্রবাসীর বৃদ্ধ মা-সহ পরিবারের লোকজন। তবে, অভিযুক্তদের দাবী তাদের ক্রয়কৃত জায়গায় ভবন নির্মাণ করায় আদালতে মামলা করা হয়েছে।
পারিবারিক ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ৫ বছর পূর্বে সৌদি থেকে ছুটিতে দেশে আসে মৃত মোতাহার মুন্সীর বড় ছেলে রেজাউল। পরে নিজের পৈতৃক জায়গার উপর একটি ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। একথা জানতে পেরে তার আপন মেঝো চাচা বাদশা মুন্সীর মেয়ে জাহিদা বেগম(৩৫) তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা ধার চায়। কিন্তু দিতে রাজি না হওয়ায় রেজাউলের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। একপর্যায়ে ওই প্রবাসীর ভবন তাদের ক্রয়কৃত জায়গায় নির্মাণ হচ্ছে দাবী করে মাদারীপুর আদালতে মামলা দায়ের করে জাহিদা।
এ মামলায় রেজাউল ও তার বৃদ্ধ মা-সহ ৪জনকে আসামি করা হয়। পরে মামলার রায় রেজাউলের পক্ষে হলে আবার জাহিদার ভাই জাকির মুন্সীকে(৩৫) দিয়ে আরেকটি মামলা করায়। সেটিরও রায় হয় জাহিদাদের বিপক্ষে। পরবর্তীতে রেজাউল দেশে না থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের গত ৫ এপ্রিল আবার জাহিদা বাদি হয়ে ১৪৪/১৪৫ ধারার মামলা করে। পরে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিল্ডিং এর কাজ বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
বর্তমানে এ ঘটনার সত্যতা জাচাইয়ের জন্য তদন্ত রিপোর্ট চেয়ে রাজৈর উপজেলা ভূমি অফিসে অনুলিপি প্রেরণ করেছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা ইয়াসমিন।
এর আগে একই এলাকার আরো দুজন রেজাউলের কাছ থেকে জায়গা ক্রয় করায় ক্ষমতার জোরে তাদের ঘর ভেঙ্গে দেয় জাহিদা ও তার লোকজন। এখন পর্যন্ত সেই জায়গা ফাঁকা থাকলেও জাহিদা গ্রুপের ভয়ে ঘর নির্মাণ করতে পারছেনা বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর মা বছিরন নেছা জানান, জাহিদা আমার ছেলের কাছে ৫ লাখ টাকা চাইছিল। কিন্তু আমি দিতে দেই নাই। তাই আমার স্বামীর ভাগের অংশ ওদের দাবী করে একের পর এক মামলা দিতেই থাকে। এবং বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিয়ে মারতে আসে।
প্রবাসীর স্ত্রী রুনা বেগম জানান, তাকে টাকা ধার না দেয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে এই পর্যন্ত তিনটি মামলা করছে। দুটির রায় আমরা পাইছি। এজন্য হুমকি-ধামকি দিয়ে ঘরের কাজ বন্ধ করতে না পেরে এখন নতুন মামলা করছে। সেই মামলার তদন্ত রিপোর্টের জন্য আদালত থেকে উপজেলা ভূমি অফিসে কাগজ পাঠাইছে। কিন্তু কয়েকজন নেতার কারণে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছে না।
অভিযুক্ত জাহিদা বেগম বলেন, আমার চাচা (রেজাউলের পিতা) মোতাহার মুন্সী তার ভাগের সব জায়গার দলিল দিয়ে গেছে। আমরা মেপে জায়গা বুঝে নিয়ে ঢাকা চলে গিয়েছিলাম। এই সুযোগে তারা আমাদের জায়গায় বিল্ডিং করে থাকতে চাচ্ছে। তাই মামলা করেছি।
এ ব্যাপারে রাজৈর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মহিউদ্দিন সরজমিনে গিয়েছিল বলে জানতে পেরে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও বন্ধ পাওয়া গেছে।
রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুজ্জামান বলেন, আমরা খোঁজ খবর নিয়ে দ্রুত প্রতিবেদন দিয়ে দেব। তবে সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গিয়েছিল কিনা আমার জানা নেই।
আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তাবাজার/পি