দৌলতদিয়ায় ধর্মীয় রীতিতে যৌনকর্মীর দাফন সম্পন্ন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী এক যৌনকর্মীর জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

যৌনপল্লী সূত্রে জানা গেছে, মৃত যৌনজীবি নারীর নাম জোসনা বেগম (৪৫)। গত ৭ জুন সোমবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর হার্ড ফাউন্ডেশন হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে যৌনপল্লীর পাশে যৌনকর্মীদের নির্ধারিত কবরস্হানে জানাযার পর দাফন করা হয়।এ সময় বৃষ্টি থাকায় জানাযা ও দাফন কাজে প্রচন্ড বেগ পোহান সংশ্লিষ্টরা।

স্হানীয় মৌলভী বাবু মিয়া জানাযার নামাজে ইমামতি করেন। জানাযায় উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল্ তায়াবীর, স্হানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল ফকিরসহ পল্লীর বাসিন্দারা।

পল্লীর কয়েকজন বাসিন্দা জানান,একটা সময় এ পল্লীর নারীরা জুতা পরে বাইরে যেতে পারত না।তাদের বাচ্চাদের স্কুলে পড়া,বাইরের বাচ্চাদের সাথে মেলামেশা করার সুযোগ ছিল না। মারা গেলে পাশের পদ্মা নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়া হতো অথবা দুর্গম চরে নিয়ে লাশ বালি চাপা দিয়ে রাখা হতো।জানাযা ও দাফন ছিল কল্পনাাতীত।জানাযা নামাজ পড়াতে এসে মসজিদের ইমামতি ছাড়তে হয়েছে এমন ঘটনাও রয়েছে। সে অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে বেশ আগে।

কয়েকটি এনজিও সংস্হা ও সমাজকর্মীদের তৎপরতা,সাংবাদিকদের অব্যাহত লেখনি এবং যৌনকর্মীদের দাবির মুখে সরকারী-বেসরকারী অর্থায়নে এখানে নির্ধারিত একটি কবরস্হান হয়। তারপর থেকে শুরু হয়েছে ধর্মীয় রীতিতে লাশ দাফনের রেওয়াজ।তবুও সামাজিক একটা অস্বচ্ছ দেয়াল এখনো রয়ে গেছে বলে পল্লীবাসির অভিযোগ।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ্ আল তায়াবীর বলেন, যথাযথ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মৃত যৌনকর্মীর জানাজা ও দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়েছে।এ ধারা অব্যাহত থাকবে।তারাও মানুষ। এটা তাদের অধিকার।

মেহেদী হাসান রাজু/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর