বস্তিতে আগুন মূলত কারা লাগায়?
রাজধানীর বস্তিগুলোতে আগুন লাগা যেন একটি সহজ ও স্বাভাবিক ঘটনা। প্রতিবারই অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে যায় অবৈধ বিদ্যুৎ কিংবা গ্যাস সংযোগ থেকে লাগা আগুনে। বস্তি হয়ে যায় উচ্ছেদ। আর বস্তি থাকলেও কিছুদিন পর সবাই আগের ঘটনা ভুলে যায়। বারবার দেওয়া হয় অবৈধ সংযোগ।
সোমবার (০৭ জুন) দিনের আলো ফোঁটার আগেই আগুন লাগে মহাখালীর সাততলা বস্তিতে। তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান বলছে আগুনের কারণ অবৈধ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ। কিন্তু কারা এসব সংযোগ অবৈধভাবে বস্তির নিম্ন আয়ের অসহায় মানুষদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে? এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণের মনে।
এ বিষয়ে ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) দাবি করছে, অবৈধ সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি চক্র গড়ে উঠেছে। যারা বিদুৎ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যদিও এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ কথা বলেনি। তবে বস্তি খালি করার জন্য অগ্নিকাণ্ডে প্রভাবশালী মহলেরও হাত থাকতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ফায়ার সার্ভিসের মতে, শুধু ২০২০ সালেই সারা দেশে ২১ হাজার ৭৩টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আরেকটি হিসেব বলছে, শুধু রাজধানীতেই গত দেড় বছরে প্রায় অর্ধশত বস্তিতে আগুন লেগেছে। এ অগ্নিকাণ্ডের পেছনে আসলে কী?
এ ব্যাপারে সংস্থাটির সাবেক পরিচালক মেজর (অব.) শাকিল নেওয়াজ বলেন, বস্তিতে অনেক রাজনীতি থাকে, অনেক কোন্দল থাকে। প্রভাবশালীরা অনেক সময় জায়গা খালি করতে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে।
যদিও অপরিকল্পিত, ঘিঞ্জি আবাসনে আগুন লাগার জন্য ঘুরেফিরে দায়ী করা হচ্ছে, অবৈধ বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সংযোগকেই। তবে বার বার প্রশ্ন ওঠে, বস্তিগুলোয় অবৈধ সংযোগ দেয় কারা?
অবশ্য ডেসকোর ব্যাপস্থাপনা পরিচালক আমির আলি সেবা সংস্থাগুলোকেও দায়িত্বহীন উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বস্তিতে বিদ্যুতের লাইন দেয়ার মতো যথেষ্ট জায়গা নেই। যারা ওয়ারিং করে করে, তারা দুর্বল ক্যাবল ব্যবহার করে।
বার্তা বাজার/এসজে