ধান সংগ্রহ নিয়ে শঙ্কা, গুদামের ঝামেলা পোহাতে চান না কৃষক
কৃষক আকবর হোসেন এ বছর ৫ বিঘা (প্রতি বিঘা ৩৩ শতক) জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। তিনি মোট ১০২ মণ ধান পেয়েছেন। ইতিমধ্যে ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা দরে ৫০ মণ ধান স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছেন। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে তাঁর কোনো আগ্রহ নেই। আকবর হোসেনের বাড়ি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে। তাঁর মতো জেলার অনেক কৃষক সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
সরেজমিন শনি ও রোববার জেলার সদর, চান্দাইকোনা ও কাজিপুর এলএসডি গুদামে গেলে কোন কৃষককে ধান দিতে দেখা যায়নি।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর সূত্র জানায়, মে থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। যা ১৬ই আগষ্ট পর্যন্ত চলবে। জেলায় ১৯ হাজার ৩৭৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (৬ জুন) পর্যন্ত ৩৮ দিনে জেলার ১০টি খাদ্যগুদামে ৩ হাজার ৬৮৬ দশমিক ৩৬০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ হয়েছে।
খাদ্য বিভাগ জানায়, ধানের বর্তমান বাজারদর ও সরকার নির্ধারিত দাম কাছাকাছি এবং ক্ষেত্রবিশেষে বেশি হওয়ায় কৃষকেরা গুদামে ধান দেওয়ার ঝক্কিঝামেলা পোহাতে চান না। ফলে জেলার নয়টি উপজেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে অনেকটাই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার হাটবাজারে বর্তমানে মোটা জাতের ধান ৯৫০ থেকে ৯৮০ টাকা এবং চিকন ধান ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১’শ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। গুদামে ধানের নির্ধারিত দাম প্রতি মণ ১ হাজার ৮০ টাকা।
রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষক রফিকুল ইসলাম এবার পৌনে দুই বিঘা (৩৩ শতকের বিঘা) জমিতে ব্রি-২৯ জাত চাষ করে ৩৫ মণ ধান পেয়েছেন। ২০ মণ ধান ১ হাজার ৪০ টাকা মণ দরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন।
তিনি বলেন, সরকারি গুদামে ধান দিতে খুব ঝামেলা হয়। স্থানীয় বাজারে কোনো ঝামেলা নেই। এ জন্য গুদামে ধান বিক্রি করিনি।
কাজিপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম এ মৌসুমে ৬ বিগা জমিতে ধান চাষ করেছিলো। এবার ঝড়-বৃষ্টি কম ও কোন প্রকার রোগ বালাই না থাকায় ফলনও বেশ ভালো পেয়েছে। তিনি ১১০ মন ধান রৌদ্রে শুকে ঘরে তুলেছিলেন। কিন্তু খাদ্য গুদাম বাড়ির পাশে হওয়ায় কর্মকর্তার অনুরোধে ৭৫ মণ ধান গুদামে বিক্রি করেছেন ১ হাজার ৮০ টাকা মূল্যে। এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় এ বছর জেলায় বোরো ধানের উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এ জেলায় এবার ৮ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩’শ ৪৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে।
যা বিগত বছরের তুললায় ৭৮ হাজার মেট্রিক টন বেশী। আর সরকারিভাবে কেনা হচ্ছে ১৯ হাজার ৩৭৬ মেট্রিক টন ধান। অর্থাৎ মোট উৎপাদনের ২ দশমিক ১৮ শতাংশ ধান কেনা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, কৃষকদের একটি করে কৃষি কার্ড দেওয়া হয়েছে। ওই কার্ডে কৃষকের নাম, পরিচয় এবং তাঁর চাষ করা জমির পরিমাণ উল্লেখ থাকে। জেলায় কার্ডধারী কৃষকের ব্যাংকে ১০ টাকার হিসাব রয়েছে। ধান কেনার পর কৃষকের ব্যাংক হিসাবে টাকা দেওয়া হয়। কৃষক ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তোলেন।
এ সম্পর্কে সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান খান বলেন, অনেক কৃষক চিকন ধান বেশি উৎপাদন করে। ফলে সরকারিভাবে যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তা বেশি। বাজারে আবার ওই চালের দামও বেশি। এ কারণে খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহ করতে ওই সকল কৃষকদের আগ্রহ কম। শুধু কৃষকনা চুক্তিবদ্ধ চালকল মালিকেরাও ঠিকমতো চাল সরবরাহ করছেন না। তবুও আমরা কৃষক ও চাল কলমালিকদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করে ধান ও চাল সংগ্রহ বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।
এম এ মালেক/বার্তাবাজার/পি