বিরোধীদল বলছে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি হয়েছে, মন্ত্রীর দাবি তিনি সফল

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্যরা। তার বলছেন, এই মন্ত্রণালয়ে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। করোনা পরিস্থিতিতে জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই স্বাস্থ্য খাতের আমূল সংস্কার প্রয়োজন।

তবে এমন কঠিন মন্তব্যের জবাবে বরাবরের মতই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলে গিয়েছেন, বাংলাদেশ করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে খুবই সফলতা দেখিয়েছে।

সোমবার (০৭ জুন) সংসদে ২০২১-২২ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেট মঞ্জুরির দাবি ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে সংসদ সদস্যরা এসব মন্তব্য করেন।

সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির মো. হারুনুর রশীদ, মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, জাতীয় পার্টির মো. ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, মুজিবুল হক চুন্নু ও রওশন আরা মান্নান।

বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, কেনাকাটায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্নীতির ডিপো। কিভাবে এই মন্ত্রণালয়ের সংস্কার করবেন, তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সুস্পষ্টভাবে জানাতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগকে সংস্কারের আওতায় আনতে হবে। বেহাল দশা থেকে রক্ষা করতে কমিটি গঠন করতে হবে। ২০ লাখ মানুষ এক ডোজ টিকা পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। তাদের আরেক ডোজের কী হবে, ঠিক নেই।

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার বাবা আমার সঙ্গে মন্ত্রী ছিলেন। আপনাকে আমি চিনি। অত্যন্ত ধনাঢ্য পরিবারের ছেলে আপনি। কিন্তু আপনার তো কর্তৃত্ব নেই, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যা হচ্ছে। চুরি-ডাকাতি করলে একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা যায়। কিন্তু আইন কেন নিজের হাতে তুলে নেওয়া হলো? এটা নিয়ে জাতিসংঘ, সারা পৃথিবী কথা বলল। আমাদের মুখটা কোথায় গেল? নিজেদের দুর্বলতা নিজেদের ঢাকতে হয়।

রুমিন ফারহানা বলেন, ১০ মাসে স্বাস্থ্য খাতে এডিপির মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। এখন নতুন বরাদ্দ চাইছে। কেন ৭৫ শতাংশ অব্যবহৃত রয়েছে, তার জবাব দিতে হবে। , দেড় বছরে মাত্র ৫টি জেলায় নতুন আইসিইউ স্থাপন হয়েছে। এখনো ৪৫টি জেলায় আইসিইউ নেই। আগে এমপি, মন্ত্রী, ব্যবসায়ীরা শর্দি-কাশি হলেও বিদেশে চিকিৎসা নিতেন। কিন্তু করোনা দেখিয়েছে দেশের চিকিৎসা ছাড়া উপায় নেই।

তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা একটি ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। দেড় বছর যাবৎ করোনা চলছে। তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে খুবই সফলতা দেখিয়েছে। যে কারণে জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক আছে। ওষুধের কোনো ঘাটতি হয়নি। অক্সিজেনের অভাব কখনোই হয়নি। আমেরিকায় যে চিকিৎসা, এখানেও একই চিকিৎসা হয়েছে। ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলমান আছে। এসব কারণে মৃত্যুর হার দেড় শতাংশ। পৃথিবীতে এই হার আড়াই শতাংশ।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর