মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতীয় সংসদের বর্তমান হুইপ ও চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য সামশুল হক সরাসরি স্বাধীনতার বিরোধী ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভাস্কর রাশা এসব কথা বলেন।
রবিবার (৬ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পটিয়ার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সামছুদ্দিন আহম্মদকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ভাস্কর রাশা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধী ছিলেন জাতীয় সংসদের বর্তমান হুইপ ও চট্টগ্রামের পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক তাঁদেরই একজন। বাংলাদেশকে অস্বীকারকারী সেই সামশুল হকের জাতীয় সংসদের মতো পবিত্র ও মহান জায়গায় প্রতিনিধিত্ব করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ সামশুল হকরা মুক্তিযুদ্ধই বিশ্বাস করেন না।
তিনি বলেন, আজকে অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় নিয়ে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। তা হলো একজন মুক্তিযোদ্ধাকে উলঙ্গ করে পেটাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক। হুইপ সামশুল হককে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ না হলে আপনি তো সংসদ সদস্য হতে পারতেন না। মুক্তিযুদ্ধ না হলে আপনি তো পটিয়ায় থেকে ছড়ি ঘোরাতে পারতেন না। অথচ মুক্তিযোদ্ধাকেই আপনি অপমান করছেন। আমার মনে হয়, আপনার সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক থাকতে পারে। নয়তো বারবার কেন আপনি মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাকে প্রতিপক্ষ করছেন?
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনটি দাবি উপস্থাপন করা হয়। এগুলো হলো সামছুদ্দিন আহম্মদকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অপরাধে অবিলম্বে হুইপ সামশুল হক চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলমকে হত্যার হুমকিদাতা হুইপপুত্র শারুন হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার এবং সমগ্র দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যা বন্ধ করার জন্য অবিলম্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন।
প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিরুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন, আইনবিষয়ক সম্পাদক এ জেড ইউ প্রিন্স ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে হুইপ সামশুল হককে সংসদ সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।
বার্তা বাজার/এসজে