ফরিদপুরে ইউপি চেয়ারম্যানসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তির নামে পুলিশের মামলা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তির নামে মামলা করেছে পুলিশ।

শনিবার (৫ জুন) সকালে আলফাডাঙ্গা থানার এসআই প্রশান্ত কুমার বাদী হয়ে উপজেলার ৬নং পাঁচুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস এম মিজানুর রহমানসহ ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১০০-১২০ জনকে আসামি করে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং- ০৩। এ ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলো- উপজেলার ধুলজুড়ি গ্রামের জামাল সর্দার, আরব সর্দার, ইবাদত সর্দার, জাহাফতাব শেখ, হাচান শেখ, লুলু মোল্যা, মাছুম শেখ ও মহসীন শেখ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৬নং পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মিজানুর রহমান ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওই ইউনিয়নের সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী খালিদ মোশাররফ রঞ্জুর মধ্যে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে আসছে। সম্প্রতি এনিয়ে দু’পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করে। পরে মামলায় উভয়পক্ষ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় আসে। এলাকায় এসে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইউনিয়নের ধুলজুড়ি গ্রামের বেড়িরহাট বাজারে দু’পক্ষ পুণরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে থানা পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এসময় উভয়পক্ষের ইটপাটকেলের আঘাতে এসআই মঞ্জুর হোসেন ও এএসআই মো. জামাল উদ্দিন আহত হয়।

তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় আলফাডাঙ্গা থানার এসআই মঞ্জুর হোসেন ও এএসআই জামাল উদ্দিন বেড়িরহাট বাজারে গিয়ে ধুলজুড়ি গ্রামের বরকত নামে এক যুবকের এক হাতে হাতকড়া দেন। তখন বরকত আরেক হাত দিয়ে এসআই মঞ্জুরকে ঘুষি দেন। ওই সময় এএসআই জামালউদ্দিন ওই যুবককে ধরতে এগিয়ে গেলে তাকেও তখন হাতকড়া পরা হাত দিয়ে আঘাত করে ওই যুবক পালিয়ে যান।

এবিষয়ে এক পক্ষের নেতা পাঁচুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস এম মিজানুর রহমান জানান, ‘শুক্রবার বেড়িরহাট বাজারে দু’ পক্ষের এরকম কোন সংঘর্ষের ঘটনা আমার জানা নেই। কিন্তু আমি ঢাকা থেকেও এই মামলার আসামি হয়েছি।’

অপরপক্ষের নেতা সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী খালিদ মোশাররফ রঞ্জু বলেন, ‘এরকম কোন সংঘর্ষ শুক্রবার বেড়িরহাট বাজারে ঘটেনি। কিন্তু আমি জানতে পারলাম আমাকেও নাকি এই মামলার আসামি করা হয়েছে।’

এবিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই মিজানুর রহমান জানান, ‘দুই পক্ষের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম/

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর