বগুড়ার কাহালুর শাহীন হত্যার পাঁচ বছর পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এঘটনায় জড়িত ৪ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (৫ জুন) পিবিআই বগুড়ার পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ১১ জুন সকাল সাড়ে ৭টায় কালাই নাটাইপাড়া গ্রামের বুলু মিয়ার বাড়ি থেকে শাহীনের (৪০) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে কাহালু থানা পুলিশ।
এরপর শাহীনের স্ত্রী নুর বানু বাদী হয়ে কাহালু থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ আড়াই বছরেও হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত জড়িতদের সনাক্ত করতে না পারলে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্তের পর সন্দেহভাজন আসামি রিপন সরদারকে গত ২ জুন কাহালুর কুনিপাড়া বাজার থেকে গ্রেফতার করা পিবিআই।
এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর তিন আসামি কাহালু উপজেলার কালাই নাটাইপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদ ওরফে তারা মিয়া, কালাই মাঝপাড়া গ্রামের সোহরাব হোসেন ও আনিছুর রহমান পাপন কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে রিপন সরদার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে বড় মামা বুলুর ৯ বিঘা সম্পত্তি ভোগ দখলের জন্য বুলুকে ফাঁসাতে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়।
নিহত শাহীন ও গ্রেফতারকৃতরা গরু চুরিসহ ছোটখাটো চুরির সাথে জড়িত ছিল। ২০১৭ সালের ১০ জুন রাতে বুলু্র বাড়িতে গরু চুরির কথা বলে আসামিরা শাহীনকে ডেকে নিয়ে যায়। রাতে তারা বুলুর বাড়ির প্রাচীর টপকে প্রবেশ করে। এরপর গরু চুরি না করে চার জন অতর্কিত শাহীনের ওপর হামলা চালিয়ে গলা কেটে হত্যা করে টিউবওয়েলের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
রিপন আরও জানায়, তাদের ধারণা ছিল মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ বুলু মিয়াকে গ্রেফতার করবে। সেই সুযোগে তারা বুলু মিয়ার সম্পত্তি ভোগ দখল করবে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিকতা এবং প্যারালাইসিসে বিছানায় পড়ে থাকা বুলু মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার না করায় তাদের জমি দখলের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
খালিদ হাসান/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম