নাম তার তালা মার্ডি বয়স প্রায় সত্তর বছর ছুঁই ছুঁই। কাছে যেতেই চোখে পড়লো তার ফাটল ধরা বাড়িটির দিকে। বাড়িটি যেকোনো মুহূর্তে ধ্বসে পরতে পারে। এই ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটে তার। কিন্তু বাড়িটি মেরামত করবার মতো সাধ্য টুকুও নেই তার।
বলছিলাম ধামইরহাট উপজেলার দক্ষিণ চকযদু ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তালঝাড়ী নামক গ্রামেরই বাসিন্দা তালা মার্ডির কথা। প্রায় চার বছর আগে সে তার স্বামীকে হারিয়েছেন। এখন অভাবের মধ্যদিয়ে জীবনটাকে টেনে টুনে কোন রকমে নিয়ে যাচ্ছেন।
ব্যাক্তিগত খোঁজখবর জানতে চাইতে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তালা মার্ডি। আক্ষেপ করে বললেন, ‘হামার খোঁজ কেউ করেনা বাবু। তুই দেখ, মোর বাড়িটার কি অবস্থা! মুই রাতোত ঘুম পারা পারোনা। বারান্দাত থাকপা হয়, মুই বুড়া মানুষ, শরীরত জোর নাই, কাম করা পারোনা।’
তালা মার্ডি’র একমাত্র সম্বল এই বাড়িটি । গতবছর অতি বৃষ্টির কারণে বাড়িটির চারদিকে ফেটে দেবে গিয়ে বর্তমানে ভয়ঙ্কর অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে কোন রকমে। হালকা ঝড় বা বৃষ্টির কারণে যে কোন সময় ধ্বসে পড়তে পারে বাড়িটি।
বাড়ির ভেতরে দুইটি ঘর, ঘরের ভেতরে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে থাকাও ভয়ের। ঘরের চারদিকে ফেটে যাওয়ায় অসংখ্য ফাটল দিয়ে ভেতরে ছুটে আসছে সূর্যের আলো। ভেঙে যাওয়া কাঠের চৌকির নিচে তাকালেই চোখে পড়ে অসংখ্য গুটি গুটি মাটি জমা করে উঁচু ঢিবি করে রেখেছে দানব ইঁদুরের দল।
এই বাড়ি থেকে বৃদ্ধাকে অন্যত্র কোথাও সরিয়ে না আনলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে এমনই আশংকা করছেন প্রতিবেশিরা।
তালা মার্ডি অভিযোগ করে বলেন, ’বাবু দুক্ষের কথা কাক কি কমু ক, কারোরই কি চোখ নাই? টেকা নাই তাই ঘর পাওনি। মুক একটা ঘর কেহ করে দিলে সেখানে শান্তিতে ঘুমাতে পারনু হনি’ কথাগুলো শেষে বৃদ্ধা অঝোরে কেঁদে ফেলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গণপতি রায় বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে উপজেলায় যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই এমন পরিবারকে বেছে বেছে তালিকা করে আমরা ঘর করে দিচ্ছি। সবাইকে যাচাই বাছাই করে ঘরের তালিকাই অনুমোদন দেওয়া হয়। এমাসে তালিকাভুক্ত ২৫ জনকে ঘর করে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আগামী জুলাই মাসে নতুন বরাদ্দ এলে বৃদ্ধা তালা মার্ডিকে তালিকাভুক্ত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ একটি ঘর করে দেওয়া হবে।
রেজুয়ান আলম/বার্তাবাজার/পি