প্রলোভন দেখিয়ে এহ্সান গ্রুপের প্রতারনা, গ্রাহকরা টাকা ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন
পিরোজপুরে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এহ্সানগ্রুপ পিরোজপুর নামে একটি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের ৫৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে সংবাদ সমম্মেলন করেছে ভুক্তভুগী গ্রাহকরা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে পিরোজপুর প্রেসক্লাবে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন গ্রাহক ও এহ্সান গ্রুপ কয়েকজন কর্মচারী।
লিখিত বক্তব্যে মুফতি শহিদুল ইসলাম বলেন, পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এহ্সান গ্রুপ পিরোজপুর নামে একটি প্রতিষ্ঠান মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা ফারুখ হোসেন, মাওলানা আবুলবাশার, মাওলানা হারনি অর রশিদ’সহ বেশকয়েকজন গ্রাহকদের থেকে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ৫৫ লাখটাকা নেয়। ২০১৯ সালের ২১ মে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মুফতিরাগীব আহসান চেক জালিয়াতির মামলায় কারাবন্দি হয়, পরে জামিনে বের হয়ে প্রতিষ্ঠনের নাম পরিবর্তন করেন এবং গ্রাহকদের লভ্যাংশ দেয়া বন্ধকরে দেন।
২০২০ সালে ৭ জুলাই চেয়ারম্যান মুফতিরাগীব আহসান পাওনা টাকার চেক প্রদানের আশ্বাস দিলে সদরের খলিশাখালী এলাকার আব্দুর রব খানের মাদ্রাসায় গেলে তার ভাইয়েরা ও পোষাসন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের উপরে অর্তকিত হামলা চালায়। পরে স্থানীয় চাপে রাগীব আহসান ৩ লাখ টাকার চেক দেয় কিন্ত ২০২১ সালের ৩১ মার্চ চেকের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে রাগীব আহসান কে ফোন দিলে নাম্বার বন্ধবলে। পরেবাধ্য হয়ে চেক ডিজ অনার করে উকিল নোটিশ পাঠালে রাগীব আহসান উকিল নোটিশ পেয়ে আমার বড় ভাই মাওলানা নাছির উদ্দিনকে উকিল নোটিশপাঠায়। নোটিশে বলা হয় তার চেক ২০১৯ সালে চুরি হয়েছে বলে থানায় সাধারণ ডায়েরী করা আছে এবং তার চেক চুরিকরা হয়েছে। আমার বড় ভাই মাওলানা নাছির উদ্দিন চেক জালিয়াতির মামলা করে।
এছাড়া অন্যান্য গ্রাহকদের জমাকৃত ২৮ লাখ টাকা, ৫ লাখ টাকা, ৩ লাখ টাকা, ২ লাখ টাকা ফেরত চাইলে মুফতি রাগীব আহসান তার ভাইয়েরা ও পোষ্য বাহিনী হামলা করে এবং মামলা করলে প্রাননাশের হুমকি দেয়। এরকম অনেক গ্রাহক টাকা চাইতে এসে নির্যাতিত হয়েছে। এরকম হাজারো গ্রাহকতাদের হাজারহাজার কোটি টাকা চাইতে এলে তাদেরকে শুধু ঘুরানো হয়। আবার অনেককে হামলা করে প্রাননাশের হুমকি দেয়া হয়। আমাদের টাকা ফেরতের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী জানাই।
তবে অভিযোগের বিষয়ে এহসানগ্রুপের কর্তৃপক্ষের থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বারবার যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করা হলেও এহ্সান গ্রুপের রাজিব হাসান কোন কথা বলতে রাজি নয়। এমনকি এহ্সান গ্রুপের ম্যানেজারও এ বিষয়ে কোন কথাবলতে রাজি হয়নি।
নাছরুল্লাহ আল কাফী/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম