যশোরের অভয়নগরের সাহিদা বেগম ওরফে ম্যাডাম সাহিদা গড়েছেন নির্মমতার ভয়াবহ নজির। পাচার করতে করতে এতটাই নিচে নেমে গিয়েছেন যে নিজের তিন মেয়েকেও আন্তর্জাতিক নারী পাঁচার চক্রের হাতে তুলে দিতে তার হাত কাঁপেনি।
৩ মেয়ের মধ্যে একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তাদের দু’জন এখন আছেন ভারতের বেঙ্গালুরুতে। আরেকজন দেশে আছে বলে জানা গেছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক উচ পদস্থ কর্মকর্তার দেওয়াব তথ্যের ভিত্তিতে।
এ বিষয়ে র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম বলেন, প্রথম ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এক তরুণীকে কয়েকজন যুবক ও এক নারী মিলে প্রচণ্ড মারধর করতে দেখা যায়। সেখানে লাল জামা ও জিন্স পরিহিত এক নারী টিকটক হৃদয় এবং তার কয়েকজন বন্ধুসহ পৈশাচিক ববর্রতা চালায়। নির্যাতনে অংশ নেওয়া লাল পোশাক পরিহিত মেয়েটি সাহিদা বেগমের। সে নারী পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। সাহিদা তার মেয়েদের যেভাবে খারাপ পথে নামিয়েছেন, সেটা কল্পনাতীত।
র্যাবের সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৩ এর যৌথ অভিযানে যশোরের অভয়নগর, বেনাপোল ও ঝিনাইদহ সদর এলাকা থেকে নারী পাঁচার চক্রের হোথা আশরাফুল ইসলাম, তার সহযোগী সাহিদা বেগম, ইসমাইল সরদার ও রামান শেখকে গ্রেফতার করা হয়। এখন তাদেরকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
সূত্র জানায়, টিকটক মডেল ও বিদেশে ভালো বেতনে চাকরি এবং প্রেমের ফাঁদে ফেলে একটি চক্র দীর্ঘদিন বাংলাদেশ থেকে নারী পাচার করে আসছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মেয়েদের নিয়ে তারা প্রথমে সীমান্ত এলাকায় জড়ো করে। সেখানে পাচারকারীদের ‘সেফ হোম’ রয়েছে। যশোর সীমান্তে সাহিদারও রয়েছে একাধিক ‘সেফ হোম’। পাচারের জন্য টার্গেট করা মেয়েদের সেখানে নিয়ে সাহিদা ও তার চক্রের সদস্যরা তাদের মানসিক এবং শারীরিকভাবে প্রস্তুত করে তোলেন। কারও কারও ওপর চালানো হয় নির্যাতন।
র্যাবের একজন কর্মকর্তা জানান, সাহিদা চারটি বিয়ে করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে মেয়েদের পাচার করে বেঙ্গালুরুতে রাফি নামে এক ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন। এর বিনিময়ে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা পান। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় নিজেও একটি গ্রপ চালান।
বার্তা বাজার/এসজে