নৌরুটে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি, দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া

চলমান বিধিনিষেধ এর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নৌ রুট গুলো চালু রাখার অনুমতি দেয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম জেলার সবগুলো নৌ-রুট চালু রয়েছে। এসব নৌ-রুট দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন কয়েক হাজার যাত্রী। যাত্রী পারাপার করা নৌ-রুট গুলোতে করোনা ভাইরাসের কোন তোয়াক্কা নেই, মানা হচ্ছে না সামান্যটুকু স্বাস্থ্যবিধি।

এছাড়াও করোনাকালীন সময়ের অজুহাতে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুন ভাড়া। বুধবার(২ জুন) সরেজমিনে জেলার যাত্রাপুর,চিলমারীর রমনা,জোড়গাছ,মোগলবাসা,রৌমারী,রাজিবপুরের ঘাটগুলোতে ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।

ঘাটগুলোতে দেখা যায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বহন করা হচ্ছে অধিক যাত্রী, কারো আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। এ নিয়ে সাধারণ যাত্রী ও ভাড়া আদায়কারীদের মধ্যে প্রায়ই ঘটছে বাগবিতন্ডাসহ হাতাহাতির ঘটনা। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ সাধারণ যাত্রীদের।

সরেজমিন ঘুরে আরো দেখা গেছে,চিলমারীর রমনা নৌকা ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী নৌকায় গাঁদাগাদি করে যাত্রী নেওয়া হয়েছে। মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি।

এসময় নৌকার যাত্রী সুজাউল ইসলাম সুজাসহ অনেক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, করোনাকালীন সময়ে সরকার নানা বিধি নিষেধ আরোপ করলেও তাতে কোনো কর্ণপাত করছেন না নৌকার মালিক ও ইজারাদাররা। মালিক ও ইজারাদাররা তাদের ইচ্ছা মাফিক যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। করোনার আগে রৌমারী-চিলমারী নৌ রুটে প্রতিজনের ভাড়া ছিল ৭০ টাকা এবং মোটরসাইকেল পরিবহণে ভাড়া ৫০ টাকা। লকডাউনের এ সময়ে প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং প্রতি মোটরসাইকেল প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ বেশি।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, জেলা শহর হতে ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন রৌমারী,রাজিবপুর উপজেলা। জেলা সদরের সাথে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে ইঞ্জিন চালিত নৌকা। জেলা সদরে দাপ্তরিক কাজ, কোর্ট-কাচারী, ব্যবসা-বানিজ্য,চিকিৎসাসহ নানা কাজের জন্য শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করে থাকেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে যাত্রী ও ভাড়া আদায়কারীদের মধ্যে প্রায়ই ঘটছে হাতাহাতির ঘটনা।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা স্বীকার করে রৌমারী নৌকা ঘাটের ইজারাদার নাসির উদ্দিন বলেন, করোনাকালীন সময়ে যাত্রী কম হওয়ায় প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে ১২৮ টাকার স্থলে (৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করে) ১৫০টাকা নেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতি নৌকায় ২৫ জন যাত্রী নেওয়া হচ্ছে।”

অন্যদিকে চিলমারী রমনা ঘাটের ইজারাদার মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন,”আমরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছি না,নির্ধারিত ভাড়ায় নৌকা চলছে। তবে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে আমরা যাত্রীদের বলছি তারা আমাদের কথা শুনছেন না।”

এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, আমরা দু-এক দিনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে নৌকা ঘাটগুলিতে অভিযান পরিচালনা করবো।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মাহবুবুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে। পাশাপাশি সীমিত পরিসরে নৌকা ঘাটে মোবাইল কোর্টও কাজ করছে।

এদিকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঘাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, নির্ধারিত ভাড়ায় নৌ-রুট যাত্রী পারাপার করবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সাধারণ যাত্রীরা।

সুজন মোহন্ত/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর