দিনে মানবিক ছাত্রলীগ নেতা, রাতেই হয়ে যান ছিনতাইকারী!
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের মানবিক নেতা হয়ে সারাদিন ঘুরে বেড়ান এলাকায়। শীর্ষ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের ছবি দিয়ে বিশেষ দিবসগুলোতে তাদের ব্যানারও শোভা পায় এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে। এমনকি করোনাকালে ত্রাণ নিইয়েও তারা ছিল মানুষদের পাশে।
দিনের বেলার মানবিক এই ছাত্রনেতারা রাতের আধাঁরে হয়ে উঠেন ভয়ংকর ছিনতাইকারী। পেশাদার মোটরসাইকেল ছিনতাইকারী এসব ছাত্রনেতার নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি পুরো সিলেট জুড়ে। তাদের চক্রের ৭স সদস্যকে পুলিশ গ্রেফতার করার পর এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে এসেছে।
সোম (২৮ মে) ও মঙ্গলবার (২৯ মে) অভিযান চালিয়ে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থেকে চক্রটির ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তখন উদ্ধার করা হয় চোরাই দু’টি মোটরসাইকেল।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কোম্পানীগঞ্জ থানার দক্ষিণ বুড়দেও গ্রামের সজল আহমদ, শাহপরান থানার ইসলামপুরের খায়রুল ইসলাম রায়হান, একই থানার সুরমা গেটের আল আমিন হোসেন শিমুল, একই এলাকার জিহাদ, কানাইঘাট উপজেলার ঢালাইরচরের আলী হোসেন জনি, একই উপজেলার শিবনগরের মারুফ আহমদ ও শ্রীপুরের দেলোয়ার হোসেন দুলাল।
এর মধ্যে খায়রুল ইসলাম রায়হান, সজল আহমদ ও আল আমিন হোসেন শিমুল সিলেট জেলা ছাত্রলীগ নেতা। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় তারা নিজেদের নেতা পরিচয় দিয়ে দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়ে আসছে।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, ১০ মে সন্ধ্যায় কোম্পানীগঞ্জের দয়ারবাজার থেকে একটি মোটরসাইকেল বুড়িডহর এলাকায় যাওয়ার জন্য ভাড়া করে। পথিমধ্যে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাইফুর রহমান ডিগ্রি কলেজের সামনে আসার পর যাত্রীবেশি ছিনতাইকারীর দুই সহযোগী মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। মোটরসাইকেল চালক কোম্পানীগঞ্জের কালিবাড়ি গ্রামের বিলাল আহমদকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিনের নির্দেশে জেলাজুড়ে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ। এই অভিযানে গ্রেফতার করা হয় মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্রের সাত সদস্যকে।
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি কেএম নজরুল জানান, গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারীদের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। এর মধ্যে সজল ও রুবেলসহ আরও দুই-তিনজন সরাসরি মোটরসাইকেল ছিনতাই করত। বাকিদের কেউ চোরাই মোটরসাইকেল নিজেদের হেফাজতে রাখত।
বার্তা বাজার/এসজে