বাংলাদেশ প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম-২(এনএটিপি-২ প্রকল্প) সুফল ভোগিদের মাঝে বিতরণকৃত উপকরনগুলো প্রকল্পের কাজে ব্যাবহারের অযোগ্য। বেশির ভাগ উপকরন গুলি ব্যবহৃত বলে ধারনা করা হচ্ছে। এগুলো ক্রয়ের সময়েও মানা হয়নি কোন নিয়ম কানুন। এমনকি এ প্রকল্পের কর্মীদের একাধিক বার ট্রেনিং করানোর কথা থাকলেও দেয়া হয়নি কোন ট্রেনিং। কিন্তু উপস্থিতি খাতায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নীরোধ বরণ জয়ধরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন প্রকল্পে কর্মরত কর্মচারীরা।
জানাযায়, সম্প্রতি কালকিনিতে এনএটিপি-২ প্রকল্পের সুফল ভোগিদের মাঝে কৃষি উপকরন বিতরণ করা হয়। এ অনুষ্ঠানে তারা অভিযোগ করে বলেন, কালকিনিতে ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম-২(এনএটিপি-২ প্রকল্প) বাস্তবায়নে উপকারভোগি ৬টি সমিতির দুধ বাজারজাত করনের জন্য ৬টি মিনি ট্রাক কেনার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে ৬টি ইজিবাইক ক্রয় করা হয়েছে।
দুধ রাখার জন্য বড় বড় ক্যান ও গরুর ঘাষ কাটার জন্য নতুন ম্যাশিন ক্রয় করার কথা থাকলেও সেখানে ছোট ছোট হাতল ওয়ালা ক্যান ক্রয় করা হয়েছে। উপকার ভোগি ও সংশ্লিষ্ট ক্রয় কর্মকর্তাদের নিয়ে ক্রয় করার কথা থাকলেও ক্রয়ের সময় তাদের রাখেনি। কিন্তু কাগজে কলমে সবাইকে নিয়ে ক্রয় করেছেন বলে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, তিনি ক্রয়কৃত ইজিবাইক ৬জনকে দেবেন বলে গোপনে তাদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহন করেছেন। এমনকি যাদের কাছ থেকে সুবিধা নিতে পারবেন তাদের এ প্রকল্পে নাম দেয়া হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ। এসময় এ প্রকল্পের জন্য ক্রয়কৃত উপকরন গুলো তেমন কোন কাজে ব্যাবহৃত হবে কিনা তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ইজিবাইকেতো মানুষ চড়ে, এতে করে মনকে মন দুধ কিভাবে বাজারে নিয়ে যাওয়া হবে? এবং যে ক্যান ক্রয় করা হয়েছে তাতে কিভাবে এত দুধ রাখা যাবে এবং বাজারে নেওয়া যাবে? কাদের পরার্মশে এ গুলি ক্রয় করা হয়েছে? এগুলি সরকারের এবং আপনাদের টাকা। এ টাকা তো জলে যেতে দিবো না। আমার মনে হচ্ছে এ অটো আপনারা ক্রয় করেছেন ভারা দেওয়ার জন্য প্রকল্পের উদ্দেশ্যে নয়।
এসময় তিনি ঘাস কাটা ম্যাশিন পরিক্ষা করে এগুলো নতুন না পুরাতন জানানোর জন্য এক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এবং এ উপকরন গুলো যেন কোন রকম ব্যাক্তির্স্বাথে ব্যাবহৃত না হয় সেজন্য কালকিনি পৌর মেয়র এস.এম হানিফকে নির্দেশ প্রদান করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, কালকিনি প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নীরোধ বরণ জয়ধর ৭বছর ধরে এখানে আছেন। তাকে ২০১৭ সালে ফরিদপুরের মধুখালি উপজেলায় স্টান্ড রিলিজ করা হয়। কিন্তু তিনি না গিয়ে এখানেই থেকে গেছেন। এখান থেকে তিনি কোথাও যেতে চান না।
কালকিনি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নীরোধ বরণ জয়ধরের কাছে প্রকল্পে কত টাকার উপকরন কেনা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি।
এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, আমরা খতিয়ে দেখে মন্ত্রনালয়ে যানাবো।
আকাশ আহম্মেদ সোহেল, মাদারীপুর প্রতিনিধি: