৩০ হাজার টাকায় করোনার পজিটিভ রেজাল্ট হলো নেগেটিভ (ভিডিওসহ)

সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের এক অফিস সহকারীর মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকায় করোনার পজিটিভ রেজাল্ট হলো নেগেটিভ। মাত্র চার দিন পূর্বে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এক ফ্রান্স প্রবাসী দম্পতির করোনা পরীক্ষার রেজাল্ট আসে পজিটিভ।

রেজাল্ট পজিটিভ আসায় বিদেশ যাওয়া নিয়ে সংশয়ে পড়েন এই দম্পতি।কিন্তু রেজাল্ট পজিটিভ আসা মাত্রই এই অফিস সহকারী ভুক্তভোগীদের সাথে মেডিকেলের অফিসার পরিচয় দিয়ে টেস্টে গ্যারান্টিসহকারে নেগেটিভ করে দিতে পারবেন বলে ১৫হাজার টাকা দাবী করেন।দামদর ঠিক করার পর এই দম্পতিকে মোবাইল নাম্বার প্রদান করে কাল চলে আসার কথা বলেন এই অফিস সহকারী।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন…

এরপর শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে মেসেজ আদান প্রদান।পরের দিন প্রবাসী দম্পতির করোনা টেস্টে আসার কথা থাকলেও রাতেই ঐ অফিস সহকারী জানান,১৫হাজার টাকায় সম্ভব না,তার সাথে যারা সংশ্লিষ্ট তারা ১৫হাজার টাকায় কোন ভাবেই মানছে না। দু’জনের ১৫হাজার করে লাগবে ত্রিশ হাজার টাকা।উপায়ান্তর না পেয়ে এই দম্পতি ৩০হাজার টাকায় রাজী হয়ে যান।

রাতে ৩০হাজার ঠিকাটাক হলে পরেরদিন নমুনা দিয়ে আসেন এই দম্পতি।

-বার্তা বাজার

এর আগে সিলেটের সীমান্তিক প্যাথলজি এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই দম্পতি করোনা টেস্ট করলে স্বামীর রেজাল্ট আসে নেগেটিভ এবং স্ত্রীর পজিটিভ।পরবর্তীতে ফের শামসুদ্দিন হাসপাতালে টেস্ট করলে স্বামী স্ত্রী দু’জনেরই রেজাল্ট আসে পজিটিভ।এমন বিড়ম্বনায় দু’জনেই সিলেটের একটি হোটেলে উঠেন আইসোলেশনে।এদিকে তুর্কি হয়ে ফ্রান্সে প্রবেশের জন্য ট্রাভেলস হতে বিমানের টিকেট কাটা থাকায় এই অফিস সহকারীর সকল প্রস্তাবেই রাজী হন এই দম্পতি।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন…

টাকা নির্ধারণ ঠিক করে নমুনা দিয়ে আসার পর ৩০তারিখ করোনা টেস্টের রেজাল্ট সাথে নিয়ে সিলেটের সেই হোটেলে যান শামসুদ্দিন হাসপাতালের ঐ অফিস সহকারী।পজিটিভ রেজাল্ট নেগেটিভ করে রিপোর্ট প্রদান করে হোটেলে বসেই করেন লেনদেন।

ছবি- বার্তা বাজার

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে,বিদেশ গমনেচ্ছু যাত্রীদের সিলেটের সীমান্তিক প্যাথলজি এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করোনা টেস্ট করতে হয়।করোনা টেস্ট পজিটিভ এলে এরপর থেকেই ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালায় একটি চক্র।কেউ পরিচয় দেয় অফিস সহকারী,কেউ যাত্রী, কেউ পুলিশ।মুঠোফোনে কল করে সহযোগিতারও আশ্বাস দেয়।সহজ সরল বিদেশ যাত্রী ভিসা কিংবা টিকেটের মেয়াদ স্বল্প হওয়ায় সহজেই সহযোগিতা নিতে চায় এদের।আর এতেই ঘাপটি মেরে বসে থাকা দালাল চক্র নানা ভঙ্গিতে তাদের লম্বা হাত থাকার পরিচয় তুলে ধরে।করোনা রেজাল্ট পজিটিভ হতে নেগেটিভ করে দেয়ার গ্যারান্টি দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।এই চক্রের জাল বিশাল ও বিস্তৃত।ওসমানী মেডিকেল হতে শামসুদ্দিন,শামসুদ্দিন হতে সীমান্তিক এমনকি সবখানেই এদের লিংক রয়েছে।

এই চক্র অত্যন্ত সুচারুভাবে তাদের দালালী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে।সরকারি মেডিক্যালের ওষুধ পর্যন্ত এই চক্র তাদের লিংকের মাধ্যমে সংগ্রহ করে অসহায় ভুক্তভোগী রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন…

বার্তা বাজার/এস.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর