নেক ব্লাস্ট রোগ কেড়ে নিয়েছে কৃষকের হাসি

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বোরো ধানের ক্ষেতে দেখা দিয়েছে নেক ব্লাস্ট রোগ। ফলে উঠতি ফসল পুড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। ফসল রক্ষা করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে বালাই নাশক প্রয়োগ করায় অনেকটা প্রতিকার পাচ্ছেন কৃষকরা। অপর দিকে তাদের বিরুদ্ধে অনেক কৃষকের অভিযোগ তাঁরা ফসলের মাঠে না গিয়ে ফোনে পরামর্শ দিয়ে থাকেন তাতে সঠিক কাজ হয় না।

এমনি অভিযোগ করেছেন উপজেলার কোলা ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন কৃষক। ফসল নষ্ট হওয়ায় দু:চিন্তা পরেছেন তাঁরা। মঙ্গলবার দুপুর বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কোলা, বয়রাগাদী, মালখানগর, মধ্যপাড়া, ইছাপুরা, রশুনিয়া, বাসাইল, লতব্দীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বোরো ধানের কিছু জমিতে এই নেক ব্লাস্ট রোগ আক্রান্ত হয়েছে। নেক ব্লাস্ট রোগে জমির বোরো ধানের শীষ শুকিয়ে গেছে। দূর থেকে দেখলে ওইসব ক্ষেতের ধান পাকা মনে হলেও কাছে গেলে বোঝা যায় সব ধান শুকিয়ে চিটা হয়ে গেছে।

কোলা গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বললে তাদের হতাশার কথা ফুটে ওঠে। ঋণ করে জমি চাষ করে তাঁরা এখন লোকসানের মুখে। বয়স্ক কৃষক মতি মৃর্ধা বলেন, অনেক বছর ধরে কৃষি কাজ করি। এমন রোগ কখনো দেখি নাই। বিভিন্ন জনের পরামর্শে ঔষধ দিছি তা ও কোন কাজ হলো না। আমার সব শেষ।

কৃষক শাহ আলম তার খেত দেখাতে দেখাতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ঋণের টাকায় যেটুকু জমি চাষ করছি ধান নষ্ট না হলে এই ধানে আমার বছর পার হয়ে যেত। এখন সব শেষ, ছেলে মেয়ে নিয়ে কিভাবে বাঁচব।

তাঁরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নেক ব্লাস্ট রোগ হলে ধানের শীষের গোড়া অথবা শীষের শাখা প্রশাখার গোড়ায় কালো দাগ হয়ে পচে যায়। শীষ অথবা শীষের শাখা প্রশাখা ভেঙে পড়ে। ধান চিটা হয়। রোগের প্রতিকার করতে রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে। মাটিতে জৈব সারসহ সুষম মাত্রায় সব ধরনের সার ব্যবহার করতে হবে। আক্রান্ত জমির খড়কুটা পুড়িয়ে ফেলতে হবে এবং ছাই জমিতে মিশিয়ে দিতে হবে। সুস্থ গাছ হতে বীজ সংগ্রহ করতে হবে, দাগি বা অপুষ্ট বীজ বেছে ফেলে দিয়ে সুস্থ বীজ ব্যবহার করতে হবে। রোগের আক্রমণ হলে জমিতে ইউরিয়া সারের উপরিপ্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে। জমিতে সব সময় পানি রাখতে হবে।

রোগের শুরুতে হেক্টর প্রতি ৪০ কেজি (বিঘাপ্রতি ৫ কেজি পটাশ সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। ট্রাইসাইক্লাজল (ট্রুপার ৭৫ ডব্লিউপি) বা টেবুকোনাজল+ট্রাইফ্লক্সিস্ট্রবিন (নাটিভো৭৫ ডব্লিউপি) প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। এ চলতি মৌসুমে আলু উঠানোর পর প্রায় ১২শ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত ও দমন করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্যাণ কুমার সরকার বলেন, ধানের শীষ আসার পর পরই গোড়ায় পচন ধরে কয়েক দিনের মধ্যেই ওই শীষ চিটায় পরিণত হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে এ ধরনের ক্ষতি হয়নি কখনো। আবহাওয়া তারতম্যের কারণেই বোরো ধান ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগ কিছু জমিতে হয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও বিশেষ করে ব্রি ধান ২৮ এ ধানটিতে রোগের আক্রমণ বেশী হচ্ছে। এ জন্য আমরা কৃষকদেরকে ব্রি ধান ২৮ এর পরিবর্তে ব্রি ধান ৮৮ চাষের পরামর্শ দিচ্ছি।

মোঃ মিজানুর রহমান/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর