ধামইরহাটে লিচুর ফলন কম, লোকসানের আশঙ্কা

নওগাঁর ধামইরহাটে অতি খরায় লিচুর ফলন কম হওয়ায় এবার লিচু চাষিদের কপালে পরেছে চিন্তার ভাঁজ। বাজার দর নিয়ে শঙ্কা তাদের।

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় তিন ফসলী জমিতে নতুন করে গড়ে উঠছে নানান জাতের ফলের বাগান। জ্যৈষ্ঠের খরতাপে রীতিমত প্রভাব পড়েছে উপজেলায় রসে ভরা মৌসুমী ফল লিচুর উপর।

অন্যদিকে অনাবৃষ্টির ফলে লিচুর ফলন কম হওযার সাথে প্রভাব পড়েছে তার আকৃতির উপরেও। আর সে কারণেই লিচু বাগানিদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।

জানা গেছে, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে কম-বেশি ছোট-বড় লিচুর বাগান। অনেকের বাড়ির অঙ্গিনায়ও দেখা গেছে বিভিন্ন জাতের লিচুর গাছ। অনেক ফরিয়া ব্যবসায়ী লিচুর মুকুল দেখে বাগান কিনলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ভালো ফলন পাননি। জৈষ্ঠ মাসে প্রকৃতির খামখেয়ালি আচরণে প্রচণ্ড রোদ, তাপদাহে বৃষ্টির দেখা মেলেনি দীর্ঘদিন। অতি খরায় অনাবৃষ্টির কারণে গাছের গোঁড়ায় পানি, সার ও বীজ দিতে গিয়ে লেবারসহ অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়েছে প্রতিটি লিচু চাষিদের। তবুও ভালো ফলন না পাওয়ায় অনেকটাই হতাশা লক্ষ্য করা গেছে লিচু বাগানিদের।

উপজেলার উত্তর পাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডে লিচু বাগানি মো. মোফাজ্জল হক সরকার জানান, আমার বাগানে বোম্বাই, চায়না থ্রিসহ মোট এক শত আটটি লিচুর গাছ রয়েছে। বাগান থেকে প্রতিবছর কমবেশি প্রায় চার লক্ষ টাকার লিচু বিক্রয় হতো। অনাবৃষ্টির কারণে ফলন কম হওয়ায় এবছর বাগান থেকে দেড় লক্ষ টাকার লিচু বিক্রি হতে পারে।

পার্শ্ববর্তী উপজেলা নজিপুর থেকে আসা পাইকারি লিচু ব্যবসায়ী মো. রাসেল জানান, এবার লিচুর ফলন কম, আকারে অনেক ছোট। তারপরেও আমরা চায়না থ্রি জাতের লিচু প্রতি পিস চার টাকা দরে কিনছি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছা. শাপলা খাতুন বার্তাবাজারকে জানান, এ অর্থ বছরে উপজেলায় ৫৫ হেক্টর জমিতে ছোট-বড়ো লিচুর বাগান রয়েছে। অতি খরার কারণে চায়না থ্রি জাতের লিচুর ফলন কম হলেও অন্যান্য জাত যেমন-বেদনা, বোম্বাই, মাদ্রাজ, মোজাফফরী ও চায়না২ জাতের লিচুর তুলনামূলক ভালো ফলন হয়েছে।

রেজুয়ান আলম/বার্তাবাজার/ভিএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর