“নিজের পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নেই, সর্বনাশা ইয়াসে আমার মৃত্যু হলো না কেন”

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আবাদ চন্ডিপুর (চুনা) গ্রামের বাঘ বিধবা পারভীন আক্তার (৪০)। গত ১৫ বছর পূর্বে স্বামী বদরুজ্জামান (বদু) গহীন সুন্দরবনের বাঘের আক্রমণে নিহত হয়েছিলেন।

সেই সময় থেকে ৩ টা মেয়ে সন্তান নিয়ে স্বামীর ভিটাকে আঁকড়ে ধরে কোন রকম বেঁচে আছেন তিনি।

গত বুধবার চুনা নদীর জোয়ারের পানি বিপদ-সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বেড়ীবাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। বেড়ীবাঁধের উপর দিয়ে উপচে পড়া পানির স্রোত বাড়ির উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পারভীনের বসতবাড়ি, রান্না ঘর, গবাদি পশু-পাখি, আসবাবপত্রসহ সব কিছুই ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

অনেক কষ্টে রোজগার কৃত অর্থ দিয়ে সদ্য নির্মিত ঘরটিতে সন্তানদের নিয়ে বসবাসের ইচ্ছে ছিল তার। নিজের কষ্টে অর্জিত সহায় সম্বল হারিয়ে পাগলপ্রায় পারভীন আক্তার বলেন, স্বামীকে বাঘে ধরেছিল ১৫ বছর আগে। এতিম ৩ টা বাচ্চা নিয়ে স্বামীর ভিটাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে ছিলাম কিন্তু আর শেষ রক্ষা হলো না।

নিজের পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নেই। সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে আমার মৃত্যু হলো না কেন। নিজের কষ্টার্জিত গচ্ছিত অর্থগুলো নিয়ে গেছে ঝড়ে।

কিভাবে নতুন ঘর তৈরি করবো, কাল থেকে না খেয়ে আছি। নিজের কাছে একটা টাকাও নেই, বাজার ঘাট না করলে খাবো কি। এসময় পারভীনের দুচোখ দিয়ে অঝোরে ঝরছিল বেদনার অশ্রু।

এমতাবস্থায় অসহায় পারভীনের পাশে থেকে প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবানদের সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

শাওন আহমেদ সোহাগ/বার্তাবাজার/ভিএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর