দেশে এখন পর্যন্ত করোনা রোগীদের ব্লাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ক্রমেই তা নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। এক ধরনের ছত্রাক। বহু বছর ধরে দেশে এই রোগের অস্তিত্ব থাকলেও করোনা মহামারিতে এটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আতঙ্ক। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করোনা রোগীর ব্লাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে জটিলতা দেখা দেওয়া এবং মৃত্যু হওয়ায় তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
দেশেও কয়েকজন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এদের মধ্যে মারা গেছেন একজন। বারডেম হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন একজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত এবং সঠিক চিকিৎসা দিতে না পারলে ব্লাক ফাঙ্গাসের কারণে তৈরি হওয়া জটিলতা নিয়ে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ রোগীর মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে করোনার পাশাপাশি ব্লাক ফাঙ্গাসজনিত জটিলতায় আক্রান্তদের অবস্থা গুরুতর হতে পারে।
এ বিষয়ে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম দেলোয়ার হোসেন জানান, শরীরের কোনও স্থানে ক্ষত থাকলে সেখানে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ হতে পারে। এমনকি ক্ষত স্থানের রক্তনালীর মুখ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’ তিনি আরও জানান, করোনা মহামারির আগেও এই ছত্রাকের সংক্রমণ ছিলো। আবার কোভিডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার আক্রান্ত, অত্যাধিক স্টেরয়েড নেওয়া, কিডনি বা অন্য অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা ব্যক্তির ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।
সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজীর আহমেদ জানান, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে তারাই আক্রান্ত হয়েছে যারা দীর্ঘদিন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ও স্টেরয়েন নেন তারা।
একই মাস্ক একাধিকবার ব্যবহার আর জীবাণুমুক্ত না করে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহারও এ রোগের ঝুকি বাড়াচ্ছে বলে মত এই বিশেষজ্ঞের। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছোঁয়াচে নয়, তাই আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম