করোনায় বন্ধ পাঠদান: পাকুন্দিয়ায় স্কুলের জায়গা দখলের চেষ্টা, শিক্ষিকাকে হুমকি!

করোনা মহামারিতে সারাদেশে স্কুল-প্রতিষ্ঠনে ছুটি চলছে প্রায় ১৪ মাস ধরে। সেই সুযোগে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে প্রভাবশালীসহ তার গংদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার এবং সহকারী শিক্ষিকা রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নে ২০০২ সালে ৩৩ শতাংশ যায়গা দিয়ে এগারসিন্দুর টানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মান করেন তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দৌলত খান। তারপর থেকে প্রতিষ্ঠানের নামে জায়গাটি সরকারি বিধি মোতাবেক নামজারী হয় এবং বিদ্যালয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ওই স্কুলে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন দৌলত খানের মেয়ে রোজিনা আক্তার।০ তিনি জানান, তারই ‘সৎভাই’ মো: হুমায়ুন কবীর বাদল (৫০), তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার (৪০), নাছিমা আক্তার রেখা (৫০) ও তার স্বামী জামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই ওই স্কুলের ৩৩ শতাংশ যায়গা তাদের নামে হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা চালাচ্ছিলো।

করোনা মহামারির মধ্যে স্কুল বন্ধ থাকার সুবাদে ২৭ জানুয়ারি সকালে আসামীরা আরও ১০ থেকে ১৫ জন ভারাটিয়া গুন্ডা প্রকৃতির লেবার মিস্ত্রিসহ অস্ত্রাদি নিয়ে ওই স্কুলের ঘড় ভেঙে চেয়ার, টেবিল, টিন, টিনের বেড়া, আলমারি, সরকার কতৃক দেয়া শিক্ষার্থীদের বই, স্কুলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায় ভাংচুর করে। যার ক্ষতির পরিমান ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ।

এ দিকে আবারও, ২৫ মে সকালে হুমায়ুন, সেলিনা, নাছিমা আক্তার, তার স্বামী জামাল উদ্দিনসহ আরও অজ্ঞাতনামা ২ জন স্কুলের যায়গায় প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছের চারা রোপন করতে থাকলে সহকারী শিক্ষিকা রোজিনা আক্তারসহ কয়েকজন বাঁধা দেয়। এ সময় আসামীরা একত্রে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে দা,লাঠি নিয়ে তাকে হত্যা চেষ্টায় এগিয়ে যায়। এ সময় হুমায়ুন কবীর ও তার স্ত্রী সেলিনা তাকে হুমকি দেয়।

এ দিকে অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হুমায়ুন কবীর বাদল সম্পত্তি আত্মসাৎ এর উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ০৪ মার্চ ১০.০৫ শতাংশ জমির একটি ভূয়া দলিল ব্যবহার করছে। যার নং- ১২২২।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হুমায়ুন কবীর বাদলের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন রিনার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান, উল্টো তাকে বিভিন্ন সময় মারধর করে রোজিনা গংরা।

এ সব অভিযোগের ব্যাপারে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারওয়ার জাহান জানান, দুই পক্ষই পাল্টা-পাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ২জন তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করছেন। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হুমায়ূন কবীর/বার্তা বাজার/এস.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর