প্রাচীন শ্মশান-ভূমি রক্ষায় বিক্ষোভ, ৭ দিনের আল্টিমেটাম

টাঙ্গাইলের মধুপুরের টেলকী গ্রামে আদিবাসীদের ভূমি ও প্রাচীন সামাজিক কবরস্থান, শ্মশানের উপর ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়নের নামে গাছ কেটে গেস্ট হাউজ এবং প্রাচীর নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসুচি পালন করা হয়েছে।

রোববার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা টেলকী বাজারে ‘মধুপুরের বিক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতা’র উদ্যোগে এই সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাসাস) কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি জন জেত্রা, জিএসএফ কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি প্রলয় নকরেক, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনিক মৃ, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি অনন্ত দাসাই, সাধারণ সম্পাদক এন্টনি রেমা, সাংগঠনিক সম্পাদক টনি ম্যাথিউ চিরান, প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তরা বলেন, স্মরণাতীত কাল থেকেই মধুপুর গড়া লে গারো, কোচ/বর্মন আদিবাসীদেও বসবাস। কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বছরেও গড়া লের আদিবাসীদের ভূমির মালিকানা ও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। উপরন্তু বিভিন্ন সরকারের সময় জাতীয় উদ্যান, ইকোপার্ক, ইকো-ট্যুরিজ, ফায়ারিং রেঞ্জ ও সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষনার নামে আদিবাসীদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদের নীল নকশা করেছে। বর্তমান বাস্তবানাধীন মধুপুর জাতীয় উদ্যানের ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। প্রকল্পে স্থানীয় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনগণের সাথে আলোচনা ও সহায়তার কথা উল্লেখ থাকলেও তা করা হয়নি।

এসময় তারা চার দফা দাবীনামাও উত্থাপন করেন। দাবীগুলো হলোÑ টেলকী গ্রামে তথাকথিত আরবোরেটামের নামে আদিবাসীদের শ্মশান এর স্থানে প্রাচীর নির্মান ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থাপনাসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন অবিলম্বে বন্ধ করা। আদিবাসীদের স্বত্বদখলীয় কৃষি ও ফসলি জমিতে কোনো ধরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা। জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষণা বাতিল করে আদিবাসী উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং আদিবাসী প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান ও সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা।

সমাবেশ থেকে সাত দিনের আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়। এই সাত দিনের মধ্যে যদি প্রকল্পের কাজ বন্ধ করা না হয়, তবে মধুপুরের আদিবাসী ছাত্র-যুব-জনতা আরো কঠোর কর্মসূচী হাতে নেবে বলে হুশিয়ারী দেন।
পরে সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করতে চাইলে সেখানে পুলিশ বাঁধা দেয়। পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে একটি মিছিল টেলকী বাজার পেরিয়ে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার টেলকী বাজারে এসে শেষ হয়।

বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক টনি ম্যাথিউ চিরান বলেন, টাঙ্গাইল বন বিভাগের দ্বারা যে কাজগুলো করা হচ্ছে সেটা কেবল আদিবাসীদেরকে উচ্ছেদ করার জন্যই। বন বিভাগ গায়ের জোরে এই প্রকল্পটির স্থাপনা নির্মাণ করছে। এভাবে প্রকল্পের নামে যদি বনবিভাগ আদিবাসী উচ্ছেদ বন্ধ না করে তাহলে আগামী দিনে আদিবাসী ছাত্র-যুব-জনতার স্রোত সে প্রকল্প রোধ করতে বদ্ধ পরিকর হবে।

বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাসাস) কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি জন জেত্রাবলেন, শশ্মান আদিবাসীদের জন্য পবিত্র স্থান। এই স্থানে বনবিভাগ গায়ের জোর দেখিয়ে যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে তাহলে মধুপুরের আদিবাসী ছাত্র-যুবরা বসে থাকবে না। এ ছাড়া প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে যদি কৃত্রিম বন সৃষ্টি করতে চান, তাহলে আদিবাসীরা অতীতে যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে তেমনি আগামীতেও রুখে দাঁড়াবে বলে তিনি জানান।

হাসান সিকদার/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর