অটো ভ্যান চালিয়ে অসুস্থ বাবা-মাসহ সংসারের বোঝা এখন ছোট্ট শিশু শাওনের (৯) মাথায়। প্রায় এক বছরের ও অধিক সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় দুবেলা দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থা করতে রাস্তায় রাস্তায় এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে শাওন (৯)।
শাওন রাজশাহীর চারঘাট পৌর এলাকার মেরামতপুর গ্রামের বাসিন্দা। পিতা মন্টু মিয়া (৬০) বয়সের ভারে বার্ধক্যজনিত কারণে শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ থাকায় পরিবারের বোঝা এখন শাওনের কাঁধে।
শাওনের মা পিঞ্জিরা (৫৫) এর সাথে কথা বলে জানা যায়, সংসার জীবনে তাদের ঘর আলো করে এসেছিলো ৫ ছেলে ও ১ কন্যা সন্তান। একে একে সবাই কৈশোর পেরিয়ে যুবক হয়, তিন ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়ে, মেয়েকে বিয়ে দিয়ে শ্বশুর বাড়ি পাঠান। তবে বৃদ্ধ বয়সে শেষ সম্বল হয়ে দাঁড়িয়েছে ছোট্ট ছেলে শাওন।
শাওন পিরোজপুর-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র, লিখাপড়ায় মনোযোগী ও শিক্ষকদের প্রিয় ছাত্র থাকলেও করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় ও বয়স্ক বাবা অসুস্থতার কারণে ভ্যান চালিয়ে খরচ যোগাচ্ছেন সে।
তার মা আরও জানান, বাবার ওষুধের টাকা ও সংসারের খরচ যোগাতে সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে রাত পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় ভ্যান চালিয়ে ভাড়া নিয়ে ছুটে চলে শাওন, অনেক দিন খাবার সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়িতে না ফিরলে খাবার নিয়ে পথ চেয়ে বসে থাকেন মা পিঞ্জিরা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ছেলে বাড়িতে ফিরলে মা-ছেলে দুজনে মিলে খাবার খায়, গল্প হয় নানান বিষয় নিয়ে। তবুও দিনশেষে নতুন আরেকটি দিনের প্রত্যাশায় এবং সন্তানের মঙ্গল কামনায় এভাবেই দিনের ইতি টানেন জনম দুখিনী মা পিঞ্জিরা, অসুস্থ বাবা মন্টু মিয়া ও ছেলে শাওনের ছোট্ট পরিবার।
ছেলের ভ্যান চালানো সম্পর্কে জানতে চাইলে শাওনের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি, এই দুঃসময়ে দুবেলা-দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থা ও কষ্ট লাঘবে সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোন সহায়তায় করা হতো তাহলে অসুস্থ পরিজনদের চিকিৎসা এবং পুনরায় বিদ্যালয় গামী হইতে পারতো শিশু ছেলে শাওন।
মোঃ নবী আলম/বার্তাবাজার/পি