পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর তান্ডবে তেতুলিয়া নদীর তীর ভেঙে বেড়িয়ে এসেছে একটি মরদে। আজ শনিবার অক্ষত কাপড়ে মোড়ানো মরদেটি ফায়ার সার্ভিস, পারিবারিক লোকজন ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে পুনরায় অন্যত্র কবরস্থানে সমায়িত করেছেন।
স্থানীয়রা দাবী করেছেন, মরদেটি উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ মিজানুর রহমানের দাদা আবুল হাসেম ফকিরের। তাকে ১৯৭৫ সালে দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে সমায়িত করা হয়েছিল।
হাসেম ফকিরের ছেলে খালেক ফকির (৮০) বার্তাবাজারকে জানান, তার বাবাকে ৪৬ বছর আগে ওই স্থানে সমায়িত করা হয়েছিল। পরে নদী ভাঙনের কারণে তাদের বাসাবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে কবরস্থানের আর কোন খোঁজ খবর নেওয়া হয়নি। ঘটনাটি জানাজানি হলে মূহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।
স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ কাশেম জোমাদ্দার (১০৩) বার্তাবাজারকে জানান, ১৯৭৫ সালে হাসেম ফকিরের মরদেহ ওই স্থানেই দাফন করা হয়েছিল। তিনি জানান, কীভাবে এত বছর পরেও মরদেহের কাফন অক্ষত অবস্থায় আছে একমাত্র আল্লাহ ভাল জানেন।
এ ব্যাপারে দশমিনা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মৃত্যুর পরে দাফন করা হলে কিছু দিনের মধ্যে মানুষের দেহের টিস্যু পচে যায় এবং লাশের সাথে মোড়ানো কাপড় গলে পচে যায় তবে এটি নির্ভর করে তাপমাত্রা, আদ্রতা, কিট পতঙ্গের উপস্থিতি,মাটির অম্লতার ওপর। কিন্তু এই মরদেহের ঘটনাটি আমার কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান নাসির সিকদার জানান, ফায়ার সার্ভিস ও লাশের পারিবারের লেকজন আজ শনিবার লাশটি উদ্ধার করে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেছে।
দশমিনা ফায়ার সার্ভিস ইনচার্জ মোঃ সালাহউদ্দিন মিয়া বার্তাবাজারকে জানান, মরদেহটি উদ্ধারের পর তাদের আত্বীয়-স্বজন পারিবারিক কবরস্থানে পুনরায় দাফন করেছে।
দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জসীম বার্তাবাজারকে জানান, নদী ভাঙনের ফলে বেড়িয়ে আসা মরদেহটির স্বজনেরা পুনরায় তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেছেন।
বার্তাবাজার/ভিএস