বেড়িবাঁধের দাবি জানানো ২ যুবককে জনপ্রতিনিধির মারধর ও হুমকি!
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে শক্রবার (২৮ মে) ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের ওপর কাফনের কাপড় পরে বেড়িবাঁধের দাবি জানানো সেই যুবকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা।
শনিবার (২৯ মে) সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলার পাতাখালি পয়েন্টে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কারকালে সহস্রাধিক মানুষের সামনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আলমগীর কবির ও স্থানীয় পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান কাফনের কাপড় পরে প্রতিবাদ করা ম্যানগ্রোভ স্টুডেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শাহিন বিল্লাহকে মারধর করেন।
হামলার শিকার ম্যানগ্রোভ স্টুডেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শাহিন বিল্লাহ জানান, শুক্রবার (২৮ মে) সকালে ভাঙন কবলিত বাঁধে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে প্রতিকী লাশ হয়ে অবস্থান কর্মসূচী পালন করি। বিভিন্ন মিডিয়ায় গুরুত্ব সহকারে উপকূলবাসীর দাবির বিষয়টি প্রকাশ পায়।
আজ (২৯ মে) সকালে পশ্চিম পাতাখালি এলাকায় বাঁধ মেরামতের কাজ চলছিল। সেখানে বাঁধ নির্মাণের সহযোগিতার কাজে গেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী আলমগীর কবির ও পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
তারা বলেন, বাঁধ নির্মানের জন্য মানববন্ধন কর্মসূচী করেছো কেন? এসব করার কি দরকার। তোমাদের নামে মামলা দেয়া হবে। ইউএনও সাহেব মামলা দিতে বলেছে। এসব বলতে বলতে আমাকে গলা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় ও চড় কিল ঘুষি মারতে থাকে। পরে উপস্থিত লোকজন তার হাত থেকে রক্ষা করে।
ঘটনাটি জানতে গিয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হামলার শিকার হয় আরেক যুবক ইয়াছির আরাফাত। তিনি বলেন, আমরা টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে মানবন্ধন অবস্থান কর্মসূচী করেছি কেন সেজন্য আমাকেও চড় কিল ঘুষি মারতে থাকে চেয়ারম্যান আতাউর রহমান। পাশে দাঁড়িয়ে উস্কানি দিচ্ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আলমগীর কবির।
আজগর আলী ও সোহরাব হোসেন নামের স্থানীয় দুই শ্রমিক বার্তাবাজারকে জানান, সকাল থেকে আমরা প্রায় তিন হাজার গ্রামবাসী বাঁধ মেরামত করছিলাম। শাহিন তা ভিডিও করে প্রচারের সময় চেয়ারম্যান লোকজন নিয়ে সেখানে হাজির হয়ে তাকে মারধর করে। পরে অন্যরা এগিয়ে এসে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায়। এসময় এসও সাহেব তাকে জেলে ভরতে চায়।
এ প্রসঙ্গে পাউবোর সেকশন অফিসার আলমগীর হোসেন বার্তাবাজারকে জানান, আমার সাথে শাহিন বিল্লাহ এর কোন সমস্যা হয়নি। তবে চেয়ারম্যানের ভাতিজা হওয়ায় তিনি শাহিন বিল্লাহর সাথে কিছুটা খারাপ আচরণ করেছেন।
মারধরের বিষয়ে জানার জন্য পদ্মপুকুরের ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. আতাউর রহমানের মুঠোফোনে বার বার (০১৭১১৪৭৯২৯৮) কল দেয়া হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এসময় তার মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, তরুণ জলবায়ু কর্মীদের মারধরের ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রীতিমত নিন্দার ঝড় বইছে।
মীর খায়রুল আলম/বার্তাবাজার/ভিএস