চাঁদপুরে পালাক্রম গণধর্ষনের শিকার একজন নারীকে মুমূর্ষ অবস্থা থেকে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা ও ধর্ষণকারীদেরকে ধরতে পুলিশকে ব্যাপক ভাবে সহায়তা করায় চাঁদপুর জেলাধীন হাজিগঞ্জ উপজেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের পুরস্কার পেলো হাজিগঞ্জের সিএনজি চালক মো: ইসমাইল হোসেন।
পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির পিতার নাম মো: আব্দুর মান্নান, বাড়ি হাজিগঞ্জ উপজেলার বাউর পাড়া এলাকায়।
শুক্রবার (২৮ মে) রাতে এই চালকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন হাজীগঞ্জ পুলিশ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ পিপিএম ও হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হারুনুর রশিদ।
জানা যায়, গত ২২ মে হাজীগঞ্জ শহরে ঘুরতে আসা এক নারীকে একদল লম্পট ধর্ষণ করে সিএনজি অটোরিকশায় উঠিয়ে দেয়। সিএনজিতে ওঠে ওই নারী অনবরত কান্না করতে থাকে। এই নারীকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করে সিএনজি চালক। নারীর কাছ থেকে ঘটনাটি শুনে এই চালক ফোন করেন হাজীগঞ্জ থানা পুলিশকে।
পুলিশ তাৎক্ষণিক নারীকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। পরের দিন এই নারী ৪ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেন। সে মামলায় পুলিশ ইতিমধ্যে ২ জনকে আটক করে চাঁদপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়ে দিয়েছে। বাকি ২ ধর্ষককে আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
এ বিষয়ে সোহেল মাহমুদ পিপিএম সাংবাদিকদেকে জানান, এই চালককে দেখে অন্যরা যেনো পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে উৎসাহী হয় সেজন্যে আমরা তাকে পুরস্কৃত করলাম।
তিনি আরোও বলেন, ওয়ারেন্টের আসামি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) সোহেল মাহমুদ পিপিএম জানান, তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।
এ সময় ওই সিএনজি চালক তার অনুভুতি জানাতে গিয়ে বলেন, তিনি এই পুরস্কার পেয়ে খুবই আনন্দিত সেই সাথে বলেন আমি একটি অসহায় মেয়েকে আইনগত সহায়তা দিতে পেরে আনন্দিত। আমি চাই আমার মত সকল পেশার মানুষ পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুক।
এ সময় হাজীগঞ্জ প্রেসকাবের সভাপতি মহিউদ্দিন আল আজাদ, সাধারণ সম্পাদক এনায়েত মজুমদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
বার্তাবাজার/ভিএস