দশমিনায় মুজিব কেল্লায় জমি দিয়ে মানবেতর জীবন ১২ পরিবারের
নুর মোহাম্মদ (৯০) এক সময় স্বচ্ছল পরিবারের প্রধান ছিলেন। ছিলো গোলাভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ ও হালের বলদ। তেতুলিয়া নদীর ভাঙনে জায়গা জমিসহ সবকিছু কেড়ে নিয়েছে তার। এক মাস আগে শেষ সম্বল বসত ভিটের যায়গাটুকু দিয়ে দিয়েছেন মুজিব কেল্লা নির্মানের জন্য।
দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামের তেতুলিয়া নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ সহ ১২ পরিবার মুজিব কেল্লা নির্মানের জন্য জমি দিয়ে ভিটেমাটি হারিয়ে হাটু সমান কাদার মধ্যে খুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ঘূর্নিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে তেতুলিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে হাটু সমান পানিতে ডুবে যায় তাদের নতুন করে তৈরি করা খুপড়ি ঘরগুলো। কলার ভেলা অথবা কোমর সমান পানি মাড়িয়ে যেতে হয় পাশের বাড়িতে অথবা সড়কে। শিশু বৃদ্ধসহ অর্ধ শতাধিক মানুষ মুজিব কেল্লায় তাদের বসত ভিটার জমি ছেড়ে দিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করলেও তাদের ভাগ্য জোটেনি কোন ত্রান সহায়তা। তিন দিন ধরে রান্না হয়নি ওই পরিবার গুলোতে। খেয়ে না খেয়ে মানবেতর ভাবে বেচে আছেন ওই পরিবারগুলো।
বাবুল হাওলাদারের স্ত্রী রানু বিবি (৬০) জানান, মাস খানেক আগে মুজিব কেল্লা নির্মানের জন্য ঠিকাদারের পক্ষ থেকে আমাদের ১২ পরিবারকে বসতঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিতে বলা হয়। আমরা ঘর ভেঙে কোথায় যাব জানালে উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অনুরোধে বসতঘরগুলো ভেঙে আমাদের রেকর্ডিও এক একর জমি ছেড়ে দিয়ে মুজিব কেল্লার পাশে কোন রকম খুপড়ি ঘর তুলে বসবাস শুরু করি। কিন্তু ঘূর্নিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে তেতুলিয়া নদীর জোয়ারের পানি ৪/৫ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের ঘরগুলো কোমর সমান পানিতে ডুবে থাকে আর ভাটায় ভেসে উঠলেও হাটু সমান কাদা থাকে ঘরের মেঝেতে।
কবির সরদার (৩৫) জানান, ঘর ভেঙে নেওয়ার পরে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আমাদের সাহায্য সহযোগীতার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তারা কোন খোজ নেয়নি।
এব্যাপারে রনগোপালদী ইউপি চেয়ারম্যান নাসির সিকদার জানান, তাদেরকে রোববার ত্রান সহায়তা দেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর ঘর বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল আমিন জানান, মুজিব কেল্লায় ক্ষতিগ্রস্থদের এখনি ত্রান দেওয়ার ব্যাবস্থা করছি আমি। তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রন প্রকল্প-২ এর আওতায় তাদের নামে ১২টি সরকারী ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে খুব দ্রুতই ঘরগুলোর নির্মান কাজ শুরু করা হবে।
বার্তাবাজার/ভিএস