কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বন্ধের দাবি ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের, আপত্তির পরও আগামী বাজেটে সুযোগ বহালের পক্ষে অর্থমন্ত্রী।
করোনাকালেও দৌরাত্ম্য কমেনি কালো টাকার। দশ হাজারের বেশি করদাতা টাকা সাদা করেছেন গেল ১০ মাসে। এতে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পেয়েছে সরকার। তাই আগামী বাজেটেও এই সুযোগ বহাল রাখার পক্ষে অর্থমন্ত্রী। কিন্তু, দেশের ব্যবসায়ীদের প্রবল আপত্তি ঢালাওভাবে এমন ‘অন্যায্য সুবিধা’ বন্ধ করতেই হবে। নইলে কর ফাঁকির প্রবণতা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদেরও।
গেল ১০ মাসে দেশে কালো থেকে সাদা হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের প্রবল আপত্তির পরও আগামী বাজেটে সুযোগ বহালের পক্ষে অর্থমন্ত্রী।
লুকানো টাকা দেখানোর উৎসব থেমে নেই করোনাকালেও। অনেক মানুষ যখন জীবিকার সংকটে ভুগছে, তখন অপ্রদর্শিত টাকা প্রকাশ্যে এনেছেন ১০ হাজারের বেশি করদাতা। চলতি বাজেটে অপ্রদর্শিত টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয় পুঁজিবাজার, জমি, ভবন ও অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যাংকে ডিপোজিট ও সঞ্চয়পত্র কেনায়। এর মধ্যে নগদ টাকাই সাদা হয়েছে সবচেয়ে বেশি। সব মিলিয়ে গেল ১০ মাসে সাদা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে কর আদায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বেশি।
বড় অঙ্কে রাজস্ব মিলছে তাই এমন সুযোগ বহালের পক্ষে অর্থমন্ত্রী। কিন্তু, ভিন্নমত ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর। মাত্র ১০ শতাংশ ট্যাক্সে টাকা সাদা করাকে ‘অন্যায্য সুযোগ’ বলছে ঢাকা চেম্বার।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘অনেক সময় অপ্রদর্শিত টাকা বাজারে চলে আসে। কিন্তু, এসব টাকাকে যদি মেইনস্ট্রিমে নিয়ে না আসেন তাহলে কিন্তু যথাযথভাবে ট্রিটমেন্ট পাবে না।’
এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, ‘সরকার এবারের বাজেটেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু, এতে ব্যবসায়ীরা বৈষম্যের শিকার হয়। এ কারণে আমরা কখনই কালো টাকা সাদা করার সুযোগকে সমর্থন করিনা।’
টাকার প্রবাহ ও কর আদায় দুটোই বাড়তি চাই- কোভিড অর্থনীতির চলমান সংকট মোকাবিলায়। যার সহায়ক ভূমিকায় রাখছে অপ্রদর্শিত বিনিয়োগ।
কোম্পানি আইন ও অর্থনীতি বিশ্লেষক ব্যারিস্টার এ এম মাসুম জানান, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ায় অর্থনীতিতে টাকার প্রবাহ বাড়ছে, বিনিয়োগ হচ্ছে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এটা একটা পজিটিভ দিক। এছাড়াও এতে রাষ্ট্রের বড় অংকের রাজস্ব আদায় হচ্ছে।’
বাজেটে কর দিয়ে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ- নিয়মিত করদাতার প্রতি রীতিমত অন্যায়- বলছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার পলিসি ফর ডায়ালগ (সিপিডি)।
সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত আয়কে রেয়াতি কর সুবিধার মাধ্যমে আইনি ভিত্তি দেয়ার প্রক্রিয়ায় সৎ করদাতাদের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে। এই ধরণের সুবিধা দেয়া হতে থাকলে কর দেয়ার প্রবণতা আরও হ্রাস পেতে পারে।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, খুব সুনির্দিষ্টভাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অপ্রদর্শিত খাতের অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে উচ্চহারে কর বসাতে হবে এই খাতে।
নির্দিষ্টখাতে বিনিয়োগের সুবিধা দেয়া বিষয়ে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, ‘যেসব খাতে আমাদের বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা বেশি সেসব খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া যেতে পারে। কিন্তু, এভাবে ঢালাওভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে ঢাকার ১০ নম্বর কর অঞ্চলে অপ্রদর্শিত অর্থ ঘোষণা হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ৬১০ জনের বেশি করদাতা প্রায় হাজার কোটি টাকা সাদা করেছেন এখানে।
সূত্র: ডিবিসি
বার্তাবাজার/পি