মুনিয়ার মৃত্যু: ৩০ মে মিলছে না তদন্ত প্রতিবেদন

রাজধানীতে কলেজছাত্রী মোছারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন যে সময় হবার কথা ছিল তা সে সময় মিলছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। আগামী ৩০ মে মামলার প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশনা থাকলেও পুলিশ বলছে, তদন্তই ঠিকমতো করতে পারেননি তাঁরা, নির্ধারিত সময়ে জমা দেওয়া তো পরের কথা।

গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান-২ এর ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর ভবনের ৩/বি ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যানের সংগে ঝুলন্ত অবস্থায় মুনিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে গুলশান থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগ এনে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমপি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মৃতের বড় বোন নুসরাত জাহান।

গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে আগামী ৩০ মে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তদন্তের জন্য মৃতের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অন্যতম উপাদান। কিন্তু সে প্রতিবেদন এখনও হাতে পায়নি পুলিশ। তাই আগামী ৩০ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে দিন ধার্য করলেও জমা দেওয়া সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন শেষ করতে হলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন লাগবে। কিন্তু সে প্রতিবেদন আমরা এখনও পাইনি। তাই নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে না। আমরা ওইদিন আদালতকে বিষয়টি জানাবো। হয়তো নিয়মানুযায়ী আদালত আরও সময় বাড়াবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, আদালত যে সময় দিয়েছে তাতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারলেও তদন্তের কাজ অনেকটা শেষ করা যেতো। ইতিমধ্যে তদন্তের অনেক তথ্য উপাত্ত আমরা সংগ্রহ করেছি। কিন্তু আমাদের মূল কাজই আটকে আছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের কারণে। তাই যেখানে ময়নাতদন্তর প্রতিবেদনই হাতে পায়নি, সেখানে নির্ধারিত সময় প্রতিবেদন জমা দেয়া তো অসম্ভব। তবে মুনিয়ার মৃতদেহের ময়নাতদন্তের বিষয়ে জানতে চেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. মো. মাকসুদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাতে তিনি সাড়া দেননি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মুনিয়ার দেহ শোবার ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলছিলো। পা খাটের উপর লাগানো এবং সামান্য বাঁকানো অবস্থায় ছিলো।

বার্তাবাজার/ভিএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর