দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণ খেলাপিদের ধরতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপী প্রমাণিত হলে দেয়া হবে বিদেশ ভ্রমণসহ গাড়ি-বাড়ি রেজিস্ট্রশনে নিষেধাজ্ঞা। থাকবে না ব্যবসার অনুমতিও। কেড়ে নেওয়া হবে সামাজিক ও রাষ্ট্রিয় সকল সুবিধা।
দেশে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণ খেলাপির সংখ্যা এখন প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার জন। এদের মধ্যে কেউ বড় লোকসান করেছে ব্যবসায় কেউ বা ইচ্ছাকৃত ভাবেই ফেরত দেননি টাকা। এতে করে খেলাপি ছাড়িয়েছে ১ লাখ কোটি টাকা। এবার ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ধরতেই ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিচালকদের অবাধ ক্ষমতা রেখে ব্যাংকের খেলাপি কমানো সম্ভব নয়। পরিচালকদের দফায় দফায় দেয়া বির্তকিত সুবিধা নতুন আইনে বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
কোম্পানি আইন ও অর্থনীতি বিশ্লেষক ব্যারিস্টার এ এম মাসুম বলেন, ‘আইন সংশোধন করে শাস্তির মেয়াদ অন্তত পাঁচ থেকে ১০ বছর করা দরকার। খসড়াতে যা দেখেছি তাতে রয়েছে যে, তারা বিদেশে যেতে পারবেনা।’
নতুন আইনে থাকছে দুর্বল ব্যাংক কোম্পানি পুনরুদ্ধারের নির্দেশনাও। এর আগের দফায় দফায় প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংক পরিচালক নিয়োগের সুবিধা বহাল থাকছে সংশোধিত আইনেও। এতে ৩৯টি ধারায় পরিবর্তন এলেও বড় দুর্বলতা থেকেই যাচ্ছে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘একজন ব্যক্তি কতদিন একই পদে থাকবে তার সীমা নির্ধারণ করে দেয়া দরকার। ব্যাংক মালিকদের পরিবারের সদস্য বা নিকট আত্বীয় যারা তাদেরকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে আইনী কাঠামো ক্লিয়ার থাকা দরকার।’
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ধরতে বিদ্যমান আইনে কঠিন বিধানই ছিল। কিন্তু প্রয়োগ ছিল না বললেই চলে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘গত দশ বছরেও কিছু না কিছু সেফগার্ড ছিল। কিন্তু সেগুলো কেন বাস্তাবায়ন হয়নি, সেই জায়গাগুলোতে সামঞ্জস্য রেখে আইনের সংশোধন আনতে হবে। তা না হলে আইনে ভালো বিষয় চলে আসবে ঠিকই কিন্তু বাস্তবায়ন হবেনা।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আইন করলেই হবেনা, আইনের বাস্তবায়ন দরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংককেও সেই আইন প্রয়োগের ক্ষমতা দিতে হবে।’
এরই মধ্যে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে ব্যাংক কোম্পানি আইন ২০২১ এর খসড়া। সামনের বাজেট অধিবেশনেই আইনটি পাশের কথা রয়েছে।
বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম