নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জরে দ্বন্ধে টেঁটাবৃদ্ধ হয়ে আব্দুল কাদির (৪৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার মেদিরকান্দা গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিকে টেঁটা মারার দায়ে এলাকাবাসী কাশেমকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছয়জনকে আটক করে থানায় আনার পথে পুলিশের গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে দুস্কৃতিকারীরা। নিহত আব্দুল কাদির (৪৫) উপজেলার সদর ইউনিয়নে নয়ানগর গ্রামের খুরশেদের ছেলে। তারই বড় ভাই একই ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামীগ সহ-সভাপতি আবুল মিয়া (৫৬) এবং খারনৈ ইউনিয়নে মেদিকান্দা গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে বাবুল মিয়া (৪০) তারা দুজন আহত হয়েছেন। বাবুলের চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়াও অন্যপক্ষের মানিক খন্দকারের ছেলে আলমগীর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, খারনৈ ইউনিয়নের মেদিকান্দা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ১৮ কাঠা (১৪৪ শতাংশ) জমির দখল নিয়ে গ্রামের মানিক খন্দকারের সাথে দ্বন্ধ, মামলা চলমান ছিল। এনিয়ে গ্রামে সালিশ বৈঠকও এরআগে হয়েছে। আজ (বুধবার) দুপুর ২টার দিকে বাবুল মিয়া আব্বাসের দোকানে যান এবং জমি সংক্রান্ত আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ের মানিক খন্দকারের লোকজন বাবুল মিয়াকে মারপিট করে।
খবর পেয়ে পাশাপাশি গ্রাম সদর ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামের ৬নং ওয়ার্ড আ.লীগের সহ-সভাপতি আবুল মিয়া ও তার ছোট ভাই আব্দুল কাদির ঘটনাস্থলে দরবার করতে আসে। সিদ্দিকের দোকানে বসা দরবারে মানিক খন্দকার ও তারা মিয়া দুপক্ষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করে। এক পর্যায়ে মানিক খন্দকারের ভাই কাশেম উত্তেজিত হয়ে দরবার করতে আসা আব্দুল কাদিরের বুকে টেঁটা বিদ্ধ করে। কাদিরকে টেঁটা বিদ্ধ অবস্থা দেখে তার বড় ভাই আবুল মিয়া ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারান।
পরে স্থানীয়রা টেঁটা বিদ্ধ কাদিরকে সহ আহত আরও দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথের মধ্যে কাদির মারা যান। কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডা. উম্মে সুমাইয় হাসপাতালে আনার আগে কাদেরের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন।
কলমাকান্দা থানার ওসি এ.টি.এম মাহমুদুল হক বার্তাবাজারকে জানান, এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে আনার পথে পুলিশের গাড়ীতে হামলায় গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর হয়েছে। নিহতের সুরতাহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হবে।
রাজেশ গৌড়/বার্তাবাজার/ভিএস