রাজধানীর দক্ষিণখানে পোশাকশ্রমিক আজহারুল হত্যায় মূল পরিকল্পনাকারী তার স্ত্রী আসমা আক্তার। তার নির্দেশনায় স্বামী আজহারুলকে কুপিয়ে হত্যা করে দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান।
নিহত আজহারের স্ত্রী আসমাকে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করে র্যাব। আজহারুল ইসলামের স্ত্রী এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী।
বুধবার সদর দপ্তরে র্যাব লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, পরকীয়া সম্পর্কের জেরেই সরদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান আজহারুলকে হত্যা করেন। আর এই হত্যাকাণ্ডের মুল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহত আজহারুলের স্ত্রী আছমা আক্তার। তিনি আজহারুলকে হত্যা করার বিষয়ে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানকে বিভিন্নভাবে চাপ দিতেন। স্বামী আজহারুলকে হত্যা করতে পারলে তিনি ইমামকে বিয়ে করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন আছমা আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, মসজিদের ইমাম আব্দুর রহিমের সঙ্গে আসমার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। তাই স্বামী আজহারুলকে সরিয়ে দেয়ার জন্য ইমামকে ভাড়াটে কাউকে দিয়ে হত্যা করার জন্য বলেন আসমা। তবে ইমাম আবদুর রহমান নিজেই নৃশংসভাবে খুন করে আজহারুলকে।
গ্রেপ্তার দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমানের সঙ্গে নিহত আজহারুলের পারিবারিক সম্পর্ক ছিলো। আজহারুল-আসমা দম্পতির চার বছরের সন্তানকে আরবি পড়াতো আব্দুর রহমান।
র্যাবের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতার জন্য ইমাম তার মক্তবের এক ছাত্রের নামে একটি সিমকার্ড ও মোবাইল ফোন কিনে দেন আসমা আক্তারকে। সেগুলো দিয়েই হত্যা পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হতো।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, রমজানের ৭ দিন আগে হত্যার পরিকল্পনা করা হলেও আজহারুল তখন কলেরায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এতে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এরপর তিনি সুস্থ হয়ে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ঈদের আগের দিন টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে গ্রামের বাড়ি চলে যায়। সেখানেও নিয়মিত আসমা আক্তারের সঙ্গে আব্দুর রহমানের যোগাযোগ ছিল।
১৯শে মে রাতে আজহারুলকে মসজিদে ডেকে নেয় ইমাম। সেখানেই ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয় আজহারুলকে। এরপর ইমাম আব্দুর রহিমের শয়নকক্ষে আজহারুলের মরদেহ ছয় খণ্ড করে সেপটিক ট্যাংকের লুকিয়ে রাখা হয়।
বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম