ব্রিজ থাকলেও নেই সংযোগ সড়ক, মইয়ে উঠে ব্রিজ পারাপার!
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ধোপাখালী গ্রামে বংশাই নদীর উপর একটি ব্রিজ নিমার্ণ করা হয়। ব্রিজটি নিমার্ণ হলেও দু’পাশের সংযোগ সড়ক নেই। আর এতে করে ব্রিজের দু’পাড়ের গ্রামবাসীদের যাতায়াত করতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। ব্রিজের এক পাশে ধোপাখালী অন্য পাশে ইসলামপুর গ্রাম। এমনকি যাতায়াতের জন্য কাঠের মই বেয়ে উঠে ব্রিজটি দিয়ে পার হতে হয়। মাটি থেকে প্রায় ৯-১০ ফুট উচ্চতায় ব্রিজটিতে মই লাগিয়ে ঝুঁকির্পূণভাবে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে মহিলা ও শিশুদের। জানা যায়, ব্রিজটিতে দু’পাশের সংযোগ সড়ক না থাকায় বাঁশের মই বেয়েই তারা মাথায় বা কাঁধে করে তাদের উৎপাদিত কৃষপণ্য নিয়ে যাচ্ছেন। তবে শুষ্ক মৌসুমে মই দিয়ে ব্রিজটিতে পারাপার করা গেলেও বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির প্রবল স্রোতের কারণে ব্রিজের দু’পাশে পারাপার বন্ধ হয়ে যায়।
এ ইউনিয়ন দুটি মূলত কৃষি প্রধান অঞ্চল। ব্রিজটি নির্মাণ হলেও সুফল পাচ্ছেন না ধোপাখালী ও ইসলামপুর ইউনিয়নের ৮ থেকে ১০ গ্রামের বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা শিরিনা বেগম বলেন, ৫ বছর আগে ব্রিজটি নিমার্ণ হলেও দু’পাশের সংযোগ সড়ক না থাকায় আমরা অনেক অসুবিধায় আছি। ধোপাখালী ও যদুনাথপুর ইউনিয়ন দুটি কৃষি অঞ্চল। স্থানীয়দের প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত কৃষি পণ্য শাক-সবজি ও ধানসহ অন্যান্য জাতের নানা ধরনের ফসল কৃষকেরা এ ব্রিজটি দিয়ে পার হয়ে ধোপাখালী বাজারে বিক্রি করতে আসেন। এতে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। এছাড়াও এ বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্য বেচা-কিনা করে থাকেন আশেপাশের ৮-১০ গ্রামের লোকজন।
এ ব্যাপারে ধোপাখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজহার আলী বার্তাবাজারকে বলেন, আমি বিষয়টি বারবার ইউপি চেয়াম্যান ও উপজেলা চেয়াম্যানকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নিতে চেয়েছেন।
এ ব্যাপারে ধোপাখালী ইউপি চেয়ারম্যান আকবর হোসেন বার্তাবাজারকে বলেন, আমরা ব্রিজটির রাস্তা সংস্কারের ব্যাপারে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। যেন দ্রুত করা যায়। এলাকাবাসী রাস্তাটির জন্য ভোগান্তির মধ্যে আছে।
এ ব্যাপারে ধনবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন সাগর বার্তাবাজারকে জানান, ব্রিজটি এডিপি নিমার্ণ করেছে। এখন আপাতত কোন বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ আসলে কাজ হবে বলে তিনি জানান।
হাসান সিকদার/বার্তাবাজার/ভিএস