মানিকগঞ্জ সদরে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার মামলায় ১৩ বছরের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার মানিকগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাঠানো হলে ওই কিশোর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। পরে তাকে গাজীপুর কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে অত্র মামলার বাদী আব্দুল বারেক জানায়, পুলিশ আসামিকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে তাতে সে সন্তুষ্ট এবং তিনি আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) হাফিজুর রহমান।
মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ওই কিশোর ও শিশুর বাড়ি পাশাপাশি এবং পরস্পরের খেলার সাথী ছিল। শুক্রবার বিকাল তিনটার দিকে ওই কিশোর খেলার কথা বলে শিশুটিকে চকের মাঝখানে একটি কাঠবাগানে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে সে শিশুটিকে ধর্ষণ করে।
তিনি আরো বলেন, এই ঘটনার সবাইকে বলে দেবে শোনার পর শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর সে গামছা দিয়ে একটি মেহগনি গাছের সঙ্গে শিশুটির গলা বেঁধে শুকনো পাতা দিয়ে ঢেকে রাখে। শিশুর গলায় থাকা রুপার চেইন এবং কানে স্বর্ণের রিং ওই কিশোর বাড়িতে নিয়ে রাখে। আসামীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ চেইন ও কানের রিং বাড়ির আলমারি থেকে উদ্ধার করেছে।
হত্যার পরের দিন কাঠবাগান থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। শনিবার শিশুর নানা মানিকগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ধর্ষণের পর হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ। এরপর অভিযান চালিয়ে সন্দেহজনকভাবে কিশোরকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে সে পুলিশের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে।
প্রেস ব্রিফিংকালে সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকবর আলী খান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান, এসআই মো. টুটুল উদ্দিন ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. জামিনুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বার্তাবাজার/ভিএস