দশমিনায় শত শত গ্রামবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাধ রক্ষার চেষ্টা

আব্দুল সত্তার মুন্সি (৮৫) উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নয়া ভাঙ্গলী এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার ১০ একর জমির মালিক। তার জমিতে এখনো মুগডাল,চিনাবাদাম,মিষ্টি আলু ও মরিচের ফসল রয়েছে। ঘুর্নিঝড় ইয়াস ও পূর্নিমার প্রভাবে মঙ্গলবার রাতে ওই এলাকার তনহার ৫২-২ ডি পোল্ডারের বেড়িবাধে প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বৃদ্ধ আব্দুল ছত্তার মুন্সি তার ছেলে নাতি ও বাড়ির মানুষ নিয়ে মঙ্গলবার সারা রাত চেষ্টা করেন বাধের ভাঙন রুখে দিতে কিন্তু পানির প্রবল চাপে ব্যার্থ হয়ে যায় তার সব প্রচেষ্টা।

আজ বুধবার সকালে মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে গ্রামের শত শত মানুষকে সাথে নিয়ে আবারো স্বেচ্ছা শ্রমে শুরু করেন বাধের ভাঙন প্রতিরোধের। খবর পেয়ে বাধ রক্ষায় অংশ নেন আলীপুর ইউনিয়নের পাচ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল বারেক ও সাত নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল হাসেম গাজীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও। পানির প্রবল ¯্রােতের মুখে ইট, বালুর বস্তা, মাটি ,গাছ ও খড়কুটো ফেলে চলে বাধ রক্ষার প্রানপন চেষ্টা।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ বছর সুতাবাড়িয়া নদীর পানি ঢুকে আলীপুরা,দশমিনা ও বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের অংশে হাজার হাজার একর জমির ফসল হানি ঘটলেও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সুতা বাড়িয়া নদী সংলগ্নে ৫২-২ ডি পোল্ডারের তনহার বেড়ি বাধের সাত কিলোমিটার সংস্কার করা হলে এলাকাবাসীর মাঝে সস্তি ফিরে আসে। ফসলে ভরে ওঠে পানিতে ডুবে থাকা ক্ষেত গুলো। ঘূর্নিঝড় ইয়াস ও পূর্নিমার জোয়ারের পানির চাপে তনহার বেড়িবাধ ভেঙে হু হু করে লোকালয়ে পানি ঢোকায় তিন ইউনিয়নের পাঁচ হাজার একর জমির ফসলী জমি ডুবে যাওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

আলীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বাদশা ফয়সাল আহমেদ জানান, স্থানীয় মানুষের প্রচেষ্টায় ভাঙন কিছুটা প্রতিরোধ করা গেলেও পানির ¯্রােত ঠেকানো না গেলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে ফসলের। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল আমিন জানান, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সালেহ আহমেদ জানান, দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার কারনে তনহার বাধের ভাঙন রোধে কাজ করা যাচ্ছে না তবে যত দ্রুত সম্ভব বাধ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা জানান, স্বেচ্ছা শ্রমে এলাকাবাসী তনহার বাধের ভাঙন রোধের চেষ্টা করছেন বলে শুনেছি। তনহার বাধ সহ উপজেলার বিভিন্ন বেড়ি বাধের ৬/৭টি পয়েন্টে ভাঙনের কারনে লোকালয়ে পানি ঢুকে প্লাবনের সৃষ্টি হয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব বাধগুলো মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছি।

বার্তাবাজার/ভিএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর