ইয়াসের প্রভাবে পানিবন্দি হাজারো পরিবার

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা পিরোজপুরের নদ-নদীর পানির চাপ বেড়েছে অস্বাভাবিক ভাবে। জেলার কচা, সুগন্ধা, কালিগঙ্গা নদী ও বলেশ্বর নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার ইন্দুরকানি উপজেলায় বেড়িবাঁধের বিভিন্ন ভাঙা পয়েন্ট দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে লোকালয় ও মঠবাড়িয়া উপজেলার মাঝের চরের বাঁধ ভেঙে বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে।

এছাড়া সন্ধ্যা নদীর পানির চাপে প্লাবিত হয়েছে কাউখালী উপজেলার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম। জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে পানিতে প্লাবিত হয়েছে এ তিনটি উপজেলার বেশিরভাগ গ্রাম। বাকি অন্যান্য উপজেলাগুলো কমবেশি প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় জেলার প্রায় শতাধিক গ্রাম ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার।

দেখা দিয়েছে গো খাদ্য সংকট। দূর্ভোগে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে চরম ভাবে। এতে করে ডায়রিয়া এবং পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে বলে মনে করেন অনেকে। বুধবার সকাল থেকে নদ নদীর পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় তীব্র স্রোতের কারণে বেকুটিয়া এবং চরখালী ও টগরা ফেরি চলাচল’সহ বিভিন্ন নদ-নদীতে খেয়া পারাপার বিঘ্নিত হয় পরে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়- জেলায় ২৯৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে মঠবাড়িয়া উপজেলায় ১৪০ কিলোমিটার ও ইন্দুরকানি উপজেলায় ৯৪ কিলেমিটার। মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট এলাকার বাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ইন্দুরকানি উপজেলার ৯৪ কিলোমিটার বাঁধের বেশির ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত ও কয়েকটি স্থান ভেঙে যায়। পানির চাপে ভেঙে গেছে বাকি বেড়িবাঁধগুলোও। এতে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার কচা ও বলেশ্বর নদী তীরবর্তী প্রায় বিশটি গ্রাম। হাট-বাজার, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ঘর বাড়ির সামনে পানি থইথই করছে। ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেকের গরু, ছাগল, মহিষ ও হাঁস মুরগি স্থানীয় সাইক্লোন শেল্টারসহ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।

ইয়াসের প্রভাবে পানিবন্দি হাজারো পরিবার। -বার্তাবাজার

খোঁজ নিয়ে জানা যায়- জেলার ইন্দুরকানি উপজেলার টগরা, চারাখালী, কালাইয়া, কলারণ, পূর্ব চর বলেশ্বর, পূর্ব চণ্ডিপুর, খোলপটুয়া ও সাউদখালী গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধের অন্তত ১৫ থেকে ১৭ টি স্থান ভাঙা রয়েছে। ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে যায়। জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বলেশ্বর নদের মধ্যে থাকা মাঝের চরের দুটি স্থানে বাঁধ ভেঙে চরের বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া পিরোজপুর সদর, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, নাজিরপুর কাউখালী উপজেলার অর্ধশতাধিকের বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জেলার নদী তীরবর্তী অনেক গ্রামেই কাঁচা ঘর বাড়ি ও বড় আকৃতির গাছপালা অতিরিক্ত পানির চাপে হেলে পড়েছে। বিভিন্ন গ্রামে পানিতে তলিয়ে গেছে মাছের পুকুর ও ঘের। এতে লোকসানের মুখে পড়েছে শত শত মাছ চাষি। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জেলার কত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে জানা যায়নি।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় জেলায় ৭১২ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়।

জেলার ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মাদ আল মুজাহিদ জানান- জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় আমরা আগে থেকেই ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছি। গতকালই ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে শুকনো খাবার পাঠানো হয়। এখানে স্বেচ্ছাসেবক, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং মেডিকেল টিম সহ উপজেলা প্রশাসন সার্বিকভাবে কাজ করছে। তিনি আরো জানান, এ উপজেলার অধিকাংশ বেরি বাধ ভাঙ্গা যার কারণে সহজেই পানি ঢুকে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে।

পিরোজপুরের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মোজাহারুল হক জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় জেলার সাতটি উপজেলায় ৭১২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও জেলায় ৬৭টি মেডিকেল টিম গঠন ও দুর্যোগকালে খাদ্য ও সহায়তার জন্য ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে ।

পাউবোর পিরোজপুর কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন- জেলার কচা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙা বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কার করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

নাছরুল্লাহ আল কাফী/বার্তাবাজার/ভিএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর